মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮
হারিয়েছে সৌন্দর্য, কমছে পর্যটক
চটচটিওয়ালাদের দখলে ক্বীন ব্রীজ এলাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ৭১ সংবাদ ডট কম
Published : Wednesday, 10 January, 2018 at 10:31 AM

চটচটিওয়ালাদের দখলে ক্বীন ব্রীজ এলাকাছোট ভাই-বোনদের নিয়ে সিলেটের সুরমার তীরে বেড়াতে এসেছিলেন নগরীর টিলাগড়ের বাসিন্দা মেহনাজ জেরিন। কিন্তু ক্বীনব্রীজের নিচের সুরমার পাড়ের অব্যবস্থাপনা দেখে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাদের। এ সময় এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন তিনি। জানালেন, ‘বছর দুয়েক আগে সুরমা তীরের যে সৌন্দর্য এবং পরিবেশ ছিল বর্তমানে তা নেই। নদী তীরের ওয়াকওয়ে চটপটিওয়ালাদের চেয়ার আর ছাতা দিয়ে দখলে থাকায় সেখানে বসার কিংবা হাঁটার কোন অবস্থা নেই। আর ওই চেয়ারগুলোতে বসতে হলে চটপটি খেতেই হয় এবং বেশিক্ষণ বসাও যায় না; নতুবা বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখিন হতে হয়। এছাড়া ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে এখানে থাকা অসম্ভব। এমন অবস্থা বিরাজমান থাকলে কেউ বেড়াতে আসবেন না সুরমার তীরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।’
 
সিলেট নগরের মধ্যে বিনোদনের অন্যতম স্থান ক্বীনব্রীজের নিচের সুরমার তীর এলাকা। এর পাশে রয়েছে সিলেটের ঐতিহ্যের নিদর্শন আলী আমজদের ঘড়ি এবং অন্যপাশে রয়েছে সার্কিট হাউস। ফলে সেখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভীড় করতেন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ভ্রমণপিয়াসীরা। এছাড়া নগরবাসীও অবসর সময় কাটাতে বিকেল থেকে রাত অবধি ঘুরতেন নদী তীর এলাকায়। কিন্তু, নানা অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে সুরমা তীরে আসা থেকে বিমুখ হচ্ছেন তারা।
 
বিশেষ করে, পুরো ওয়াকওয়েতে চেয়ার বসিয়ে দখলে রেখেছে চটপটিওয়ালারা। এছাড়া সার্কিট হাউসের সামনের প্রধান সড়কে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডের কারণেও আড়ালে পড়ে গেছে সকল সৌন্দর্য। তাছাড়া ট্রাকের দীর্ঘ সারির কারণে সড়কে লেগে থাকে দীর্ঘ যানজটও। শুধু তাই নয়; মূল সড়কের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা ছাড়াও মূত্র ত্যাগের কারণে দুর্গন্ধ ছড়ায় পুরো এলাকায়। এ কারণে সেখানে যাতায়তে আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটকসহ সকলেই। তবে, এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোন তদারকি কিংবা ব্যবস্থা নেই। এমনকি সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন কেউই এই অব্যবস্থাপনার দায় নিতে চাচ্ছে না।
 
সম্প্রতি ক্বীন ব্রীজের নিচের ওই অংশ ঘুরে দেখা গেছে, সুরমার তীরের ওয়াকওয়ের র‌্যালিং ঘেষে টানানো রয়েছে অসংখ্য ছাতা। আর তার নিচে সারি করে বসানো চটপটিওয়ালাদের চেয়ার। অবসর সময় কাটাতে আসা ব্যক্তিরা এসব চেয়ারে বসতে গেলেই চটপটি কিংবা ফুসকা অর্ডার করতে হয়, নতুবা তাদের বসতে দেয়া হয়না। এমনকি খারাপ আচরণও করে চটপটিওয়ালারা। আর পুরো ওয়াকওয়ে তাদের দখলে থাকায় ঘুরতে আসা ব্যক্তিরা সেখানে হাঁটা-চলা করতে পারেন না। ফলে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা মাসোহারার বিনিময়ে চটপটিওয়ালাদের সেখানে বসিয়েছেন।


একই ভাবে সারদা হলের সামন থেকে সার্কিট হাউসের সামন হয়ে কালিঘাট পর্যন্ত মূল সড়কের দুই পাশে অবৈধ ভাবে পার্কি করে রাখা হয়েছে মিনি ট্রাক। তাদরে দখলে রয়েছে সার্কিট হাউসের প্রধান ফটকও। তাছাড়া অন্য পাশে রয়েছে সিটি করপোরেশনের কিছু যানবাহনও। ভিআইপি রোড হওয়া সত্বেও এখান থেকে ট্রাক সরাতে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না প্রশাসন। এক্ষেত্রে ট্রাক ড্রাইভারদের কাছ থেকেও মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
 
কলেজ ছাত্র কানন চন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চটপটিওয়ালাদের দখলে পুরো ওয়াকওয়ে। তাছাড়া ট্রাকের দখলে সড়ক। এ কারণে আগের সেই সৌন্দর্য নেই। আগে দলবেঁধে বন্ধুরা সেখানে ঘুরতে যেতাম। এখন কেউ আসতে চায় না তাই ঘুরতে যাওয়াও হয় না।’
 
তবে, এ ব্যাপারে ভিন্নমত পুলিশ প্রশাসনের। তাদের মতে, পর্যটকরা মূলত চটপটি খেতেই ক্বীন ব্রীজ এলাকায় আসেন। আর ট্রাক স্ট্যান্ড সরানো প্রসঙ্গে তাদের বক্তব্য- দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মাণ কাজ শেষ হলেই এখান থেকে ট্রাক চালকরা সরে যাবেন।
 
সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন বলেন, ‘যারা এখানে ঘুরতে আসেন তারা প্রধানত চটপটি খাওয়ার জন্য আসেন।’ তবে চটপটিওয়ালাদের কারণে যাতে পর্যটকদের কোন সমস্যা না হয় এবং শৃঙ্খলা থাকে সেজন্য ওই এলাকায় পুলিশের একটি দল মোতায়েন করা হবে বলে জানান তিনি।
 
ট্রাক স্ট্যান্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ক্বীন ব্রীজ এলাকায় থাকা ট্রাক স্ট্যান্ড সরাতে জেলা প্রশাসনের সাথে মালিক পক্ষের বৈঠক হয়েছে। দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মাণ কাজ শেষ হলেই তারা এখান থেকে ট্রাক সরিয়ে নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এ কারণে সাময়িক ভাবে তাদের সেখানে ট্রাক রাখতে দেওয়া হয়েছে।’
 
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানালেন, ‘ক্বীনব্রীজ এলাকার নদী তীরের ওয়াকওয়ে নির্মাণ করেছে সওজ। তবে তারা লাইটিংসহ রক্ষণাবেক্ষণের করে দিয়েছেন। তিনি জানান, চটপটিওয়ালারা সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে নোংরা করলে তা পরিষ্কারের দায়িত্ব তাদেরই। এ ব্যাপারে তাদের সতর্ক করে দেওয়া হবে। যাতে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে।’
৭১সংবাদ ডট কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


সর্বশেষ সংবাদ
মানিকছড়ি থানার ওসিকে স্ট্যান্ডরিলিজ
সড়কে প্রাণ গেল নানি-নাতনির
ফখরুলের হুমকি আর কাজে আসবে না : হাছান মাহমুদ
ডিএসইতে সূচকের বৃদ্ধি অব্যাহত
নাসির-মোতালেবের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে মন্ত্রণালয়
শিক্ষামন্ত্রীর পিও’র টাকা প্রশ্ন ফাঁসের?
আজও নায়করাজ হওয়ার চেষ্টা করছি : আলমগীর
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
রাজবাড়ী হতে ইয়াবাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী আটক
নিজ জমির দখল পাচ্ছেনা কালুখালীর সামাদ সেখ
পেনশনের টাকা চেয়ে এস কে সিনহার চিঠি
বালিয়াকান্দির পলাতক নারী ধর্ষককে গ্রেফতার করল র‌্যাব-৮
ভাইকে বাঁচাতে বাঘের সঙ্গে লড়াই!
টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
মের্কেলের দলের সঙ্গে জোট গঠনে এগোবে এসপিডি
Chief Advisor: A K M Mozammel Houqe MP
Minister, Ministry of Liberation War Affairs, Government of the People's Republic Bangladesh.
Editor & Publisher: A H M Tarek Chowdhury
Sub-Editor: S N Yousuf
Chief Reporter: Nazmul Hasan Babu
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ৭১সংবাদ, ২০১৭
প্রধান কার্যালয় : ৫৩, মডার্ন ম্যানশন (১৪তলা), মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০
বার্তাকক্ষ : +৮৮-০২-৯৫৭৩১৭১, ০১৬৭৭-২১৯৮৮০, ০১৬২২-৩৩৩৭০৭, ০১৮৫৫-৫২৫৫৩৫, ই-মেইল :71sangbad@gmail.com, news71sangbad@gmail.com, Web : www.71sangbad.com