শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
অবশেষে শাকিব-অপু সংসার অধ্যায়ের অবসান
ডিভোর্স মেনে নিয়েছেন অপু
২২ ফেব্রুয়ারি সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ৭১ সংবাদ ডট কম
Published : Tuesday, 13 February, 2018 at 8:11 PM

 ডিভোর্স মেনে নিয়েছেন অপু ভালোবাসা দিবসের আগেই অবসান ঘটছে শাকিব-অপু অধ্যায়ের। ১০ বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক আর ১২ বছরের ফিল্মি ক্যারিয়ার, দুটিই এখন থেমে গেছে। গতকাল ছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শাকিবের করা ডিভোর্সের আবেদনের দ্বিতীয় দফা সমঝোতা বৈঠক। প্রথম বৈঠকের মতো দ্বিতীয়বারও শাকিব দেশে না থাকায় ‘সমঝোতা’ মূলত ভেস্তে গেছে। দুজনের দাম্পত্য সম্পর্ক এখন ‘প্রাক্তন’ হতে চলেছে। দুজনের ইচ্ছাতে নয়, বরং শাকিবের সিদ্ধান্তে এই বৈবাহিক জীবনের পর্দা নামল—এমনটি দাবি করেছেন স্ত্রী অপু বিশ্বাস।

আর শাকিবের কথায় ‘সহ্যের সীমা আছে, অপুর জন্য কী করিনি, সে আমাকে স্বামী হিসেবে কখনো মানেনি। ২০০৮ সালে বিয়ের পর ২০১০ সালে এক নায়কের সঙ্গে তাকে হাতেনাতে ধরার কথা তখন পত্রপত্রিকায় এসেছে। একজন স্ত্রীকে পরপুরুষের সঙ্গে অন্য অবস্থায় ধরে ফেলার পর কোনো স্বামী কি তা ক্ষমা করে। কিন্তু আমি করে দিয়েছিলাম। চেয়েছিলাম সুখে শান্তিতে ঘর করতে। তারপরেও সে নানাভাবে আমাকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ১০ এপ্রিল আমার বিরুদ্ধে আমার সন্তানকে নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলে লাইভ অনুষ্ঠানে যাওয়া কি তার উচিত ছিল? সেদিন থেকে অবিরাম পত্রপত্রিকা আর টিভি চ্যানেল এবং ব্যক্তিগতভাবে সে আমার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেই চলেছে।

এটি কি ভালোবাসার নমুনা? তারপরেও আমি তার ও আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বার বার সব ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। ১০ এপ্রিলের ঘটনার পরেও নিয়মিত তার বাসায় যেতাম, তার ও আমাদের সন্তানের খোঁজখবর নিতাম। মাসে যা ভরণ-পোষণ দরকার সবই দিচ্ছি। এত কিছুর পরেও সে কখনো আমাকে ঘিরে তার করা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য একবারও সরি বলেনি। সে শুধু আমাকেই অপমান করেনি। আমার বাবা-মাকেও অসম্মান করেছে। সে যদি একবার সবার সামনে এর জন্য ক্ষমা চাইত আমি অবশ্যই সব ভুলে গিয়ে আবার ঘর সংসার শুরু করতাম। আমি বরাবরই চাই আমাদের মধ্যে যা হয়েছে তা ঘরের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ থাকুক।

প্রতিটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই খুনসুটি কম বেশি থাকে। তাই বলে তা বাইরের মানুষকে জানিয়ে হাসির খোরাক তৈরি করা কেন? শুধু মানুষ হাসবে না, আমাদের বাচ্চা যখন বুঝতে শিখবে আর তার বাবা-মার সম্পর্কে এসব নেতিবাচক ঘটনা জানবে তখন তার মনে কি এর বিরূপ প্রভাব পড়বে না? শাকিব দুঃখ করে বলেন, আমি চাইনি এভাবে আমাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাক। সন্তানের স্বার্থে সব ঠিক রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু গত বছরের নভেম্বরে আমি যখন ছবির শুটিংয়ে দেশের বাইরে ছিলাম তখন সেই সুযোগে সে আমার বাচ্চাকে বাসায় কাজের মানুষের কাছে রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে দেশের বাইরে চলে যায়। এমন খবরে সন্তানের জন্য চরম উৎকণ্ঠিত হয়ে দেশে এসে সন্তানকে উদ্ধারে নিকেতনে তার বাসায় ছুটে যাই।

কারণ বন্ধ ঘরে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে বাচ্চাটির জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে। বাসায় গেলে অনেক ডাকাডাকির পরেও কেউ দরজা খুলল না। উল্টো ভিতর থেকে আমাকে জানিয়ে দেওয়া হলো দরজায় তালা দিয়ে অপু চাবি নিয়ে চলে গেছে। এরপর বাবা হিসেবে আমি কেমন মানসিক যাতনায় ছিলাম তা কারও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এরপরও কিছু বলিনি। অপু ফিরে এসে এর জন্য আমার কাছে ক্ষমা তো চায়নি বরং আমার বিরুদ্ধে আবার বিষোদগার শুরু করে। এই অবস্থায় তাকে ডিভোর্স দেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো পথ ছিল না।

২২ নভেম্বর বাধ্য হয়ে আইনজীবী মারফত ডিভোর্স লেটার পাঠাই। শাকিব বলেন, ঘটনা এখানেই শেষ নয়, এরপরও চাইছিলাম সে যদি ক্ষমা চায় তা হলে আমি নতুন করে চিন্তা ভাবনা করব। কিন্তু সেই সুযোগও সে আমাকে দেয়নি। বারবার বাচ্চাটি দেখার জন্য চেষ্টা করলেও সে আমাকে তা থেকে বঞ্চিত করে আসছে। বাচ্চার ভরণ-পোষণের জন্য মাসিক খরচ পাঠালে তাও ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। সম্পর্ক শুরুর পর থেকে কেন সে আমার সঙ্গে এমন অত্যাচার করে আসছে বুঝতে পারছি না।

শিল্পী হিসেবে অন্য যে কোনো নায়িকার বিপরীতে আমি অভিনয় করতেই পারি। সেখানেও তার বাধা। এতসব যন্ত্রণা আমি আর কত সহ্য করব। মানুষ হিসেবে আমারও সহ্য আর ধৈর্যের সীমা আছে। এখন সে বাচ্চা দেখতে না দিয়ে আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার পথ বেছে নিয়েছে। আমি আর কিছু বলতে চাই না। মানুষ এসব ঘটনা দেখছে, জানছে। সবাই বিবেক দিয়ে তা উপলব্ধি করবে বলে আমার বিশ্বাস।

অন্যদিকে অপুর কাছে শাকিবের এসব বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, বাচ্চাকে রেখে আমি চিকিৎসার জন্য কলকাতা গিয়েছিলাম সত্য, কিন্তু ফিরে এসে বাচ্চাকে নিয়ে তার শাকিবের বাসায় যাই। তার ও তার বাবা মার সঙ্গে সময় কাটাই। এরপর আমার করার আর কী আছে। আমি নই, বরং শাকিবই আমাকে বিয়ের পর থেকে অবহেলা করেছে। তার ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে তার অনুরোধে দীর্ঘসময় বিয়ে ও সন্তানের কথা গোপন রেখেছিলাম।

তার কাছে আমার শেষ একটি অনুরোধ ছিল সে যেন বুবলীর সঙ্গে কাজ না করে। কারণ শাকিব আর বুবলীর সম্পর্কে নানাজন নানা কথা আমাকে বলছিল। যা স্ত্রী হিসেবে আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। কিন্তু শাকিব আমার এই অনুরোধকেও পাত্তা দেয়নি। তখন বাচ্চাকে নিয়ে আমার প্রকাশ্যে আসা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। অপু বলেন, যা হওয়ার তাতো হয়ে গেছে। এখন আমার ধ্যান জ্ঞান একমাত্র আমার সন্তান আবরাম খান জয়। তার জন্য বাঁচব আর তাকে মানুষ করতে পরিশ্রম করে যাব। শাকিবকে নিয়ে আর কখনো কোনো কথা বলতে চাই না।

এদিকে শাকিবের ডিভোর্স লেটার প্রেরণের তিন মাস পূর্ণ হবে ২২ ফ্রেব্রুয়ারি। যেহেতু সিটি করপোরেশনের ডাকা সমঝোতা বৈঠকে শাকিবের সাড়া পাওয়া যায়নি তাই স্বাভাবিকভাবেই ওইদিন থেকে তাদের ডিভোর্স কার্যকর হয়ে যাচ্ছে বলে সিটি করপোরেশনের পারিবারিক আদালত সূত্রে জানা গেছে। তাই এখনকার বাস্তবতা হলো শাকিব-অপুর দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি ঘটছে। বাকি রইল ফিল্মি সম্পর্ক, সেটি আগামীতে জোড়া লাগবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে।
৭১সংবাদ ডট কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্ব সম্প্রদায়ের 'সহানুভূতি' আদায়ে ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল
ছাত্রদলের ১২ নেতা আটক, আহত ৫০
রাজৈরে প্রতারক সন্দেহে ১৪ নারীকে আটক
চলচ্চিত্রে শিপন-হিমি
রায়গঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় তিন সন্তানের জননী নিহত
গার্দিওলার ব্যক্তিগত বিমানে স্প্যানিশ পুলিশের তল্লাশি
ড্রোন ‘বাঁচাবে’ জীবন, গতিরোধক থেকে বিদ্যুৎ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
৫ মাস পর স্ত্রীকে ঘরে তুললেন হৃদয় খান
মদ্যপান করে গাড়ি চালানো, অতঃপর...!(ভিডিও)
২০১৯ সালে বিয়ে করবেন শাকিব খান!
সিরাজগঞ্জ পৌর আ’লীগের সম্মেলনে হেলাল সভাপতি সম্পাদক দানি মোল্লা
খালেদার জামিন আবেদন হাইকোর্টের কার্যতালিকায়
রায়গঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় তিন সন্তানের জননী নিহত
শাকিবের ১ গোল
Chief Advisor: A K M Mozammel Houqe MP
Minister, Ministry of Liberation War Affairs, Government of the People's Republic Bangladesh.
Editor & Publisher: A H M Tarek Chowdhury
Sub-Editor: S N Yousuf
Chief Reporter: Nazmul Hasan Babu
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ৭১সংবাদ, ২০১৭
প্রধান কার্যালয় : ৫৩, মডার্ন ম্যানশন (১৪তলা), মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০
বার্তাকক্ষ : +৮৮-০২-৯৫৭৩১৭১, ০১৬৭৭-২১৯৮৮০, ০১৬২২-৩৩৩৭০৭, ০১৮৫৫-৫২৫৫৩৫, ই-মেইল :71sangbad@gmail.com, news71sangbad@gmail.com, Web : www.71sangbad.com