শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০ ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ ● ১০ রবিউস সানি ১৪৪২
কিছু না হোক অন্তত একটি পান খাওয়া চাই বটে বাজারে গ্রীষ্মকালে দাম চড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, ৭১ সংবাদ ডট কম :
প্রকাশ: রোববার, ১৫ মার্চ, ২০২০, ৩:০৮ পিএম আপডেট: ১৫.০৩.২০২০ ৩:২২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 53

সন্দ্বীপে পান চাষে বিপুল সম্ভাবনা

সন্দ্বীপে পান চাষে বিপুল সম্ভাবনা

বাজারে পানের দাম চড়া ,৮ ঘন্ডা বা ৮০ পিচ পানে এক চলি বলে গ্রামে কিন্তু দাম ভালটি ১০০ টাকা থেকে ৮০ টাকা।এখন পান চাষে আগ্রহ হয়ে উঠেছে এলাকার গরীব চাষীরা।গ্রীষ্মকালে অকাল দেখা যায় পানের বরে,পাতা শুকিয়ে যায়,পান গাছ মরে যায়,এতে বর পানযাত বাজারে কম দেখা যায়।এমন এক চিত্র দেখুন--

একসময় সন্দ্বীপ থেকে প্রচুর পান রফতানি হতো।উল্টো চট্টগ্রাম শহর ও বরিশাল থেকে পান আসে। পান রফতানিকারক ভূখণ্ডটি এখন পরিনত হয়েছে পান আমদানিকারক ভূখণ্ডে।

 পান উৎপাদনে সন্দ্বীপের অনেক খ্যাতি ছিল। সন্দ্বীপের পান নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম শহরে যেত। কিন্তু এখন মানুষ বেড়ে গেছে। তাই সন্দ্বীপের চাহিদাই পূরণ করা যায় না। 

সন্দ্বীপে বাসায় মেহমান বা আত্মীয়-স্বজন এলে তাদের সর্বপ্রথম পান দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। পান ছাড়া বিয়ে-শাদি ও পূজা-পার্বণ হয় না। একসময় সন্দ্বীপের মানুষ বিশ্বাস করতো, বাড়ি থেকে মেহমান খালি মুখে বিদায় নিলে গৃহস্থের অমঙ্গল হয়। তাই আর কিছু না হোক অন্তত একটি পান খাওয়ানো চাই।

সরেজমিনে জানা যায়, সন্দ্বীপ থানা এলাকা, মুছাপুর পণ্ডিতের হাট, হিন্দুপাড়া ধাম ও হারামিয়া এলাকায় প্রচুর পানের বরজ গড়ে উঠেছে। সন্দ্বীপে ১৫-১৬ হেক্টর জমিতে পানের বরজ আছে। পানচাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের দুর্দিন চলছে। তাছাড়া পানচাষিরা পান বিক্রি করে খুব একটা লাভের মুখ দেখতে পান না। দিন দিন পানের বরজ কমে যাচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় নতুন পানের বরজ না হওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে সন্দ্বীপের ঐহিহ্যবাহী পানের আবাদ।

jagonews24

jagonews24

এদিকে পান চাষ শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল হওয়ায় চাষিরা পান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। পান চাষের মতো জটিল ও কষ্টসাধ্য আবাদে বর্তমানে দক্ষ শ্রমিক খুব একটা পাওয়া যায় না। যদিও এলাকার জমিতে ধান বা সবজি চাষের চেয়ে পান চাষই লাভজনক। তাই পান চাষে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে।

পানচাষিরা জানান, বাঁশের দাম অনেক, সার ও কীটনাশকের মূল্য চড়া এবং পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। সব মিলিয়ে পানচাষিরা পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য এখন ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে পানের বরজের অন্যতম প্রধান খাদ্য সরিষার খৈল- যার প্রতিকেজির মূল্য ৭০-৮০ টাকা। সেই খৈল বাড়িতে এনে হাতে গাইল বা ঢেঁকিতে গুঁড়া করে ১ মাস অন্তর পান গাছের গোড়ায় দিয়ে বাইরে থেকে মাটি এনে ঢেকে দিতে হয়।

এরপর একটি পানের বরজে চারদিকে ঘরের মতো বেড়া দিয়ে ওপরে ছাউনি দিতে হয়। যাতে রোদ, বৃষ্টি, কুয়াশা ও পাখি থেকে পানকে রক্ষা করা যায়। অভাব, নানা দুর্যোগ ও উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে পান চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। বরজে বর্ষাকালে পচন রোগ, সাদা মাছি ও কালো শুষক পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। তাই অনেকেই জীবন-জীবিকার তাগিদে পারিবারিক ঐতিহ্য ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।

jagonews24

jagonews24



কলেজছাত্র আবদুল কাদের প্রান্ত বলেন, ‘দাদির জন্য পান কিনতে হয় সবসময়। দাদি বলে রাখেন, দেশি পান (সন্দ্বীপের পান) আনার জন্য। কারণ এ পান সুস্বাদু। আমরা একসময় দেখতাম, পানের বরজ থেকে বেপারিরা সাইকেলে করে নিয়ে যেত বিক্রির জন্য। কিন্তু এখন আর এ দৃশ্য চোখে পড়ে না। সন্দ্বীপে পান চাষ ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে।’

অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেন নিতাই চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা পান চাষ করতেন। তা ধরে রাখার জন্য আজও করছি। ৫শ’ টাকার নিচে একজন শ্রমিক পাওয়া যায় না, পান চাষ করার জন্য যেসব উপকরণ দরকার তার দাম অনেক বেশি। পানের বরজে যা খরচ করি, তার সিংহভাগও বিক্রি করে পাই না। ভাবছি পান চাষ ছেড়ে দেবো।’

jagonews24

jagonews24

কথা হয় জাবেদ হোসেন নামে পানের বরজ মালিকের সাথে। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির মার্কেটিং অফিসার। বলেন, ‘আগের মতো লাভ নেই। বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে চাষ করে যাচ্ছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তেমন সহযোগিতা ও পরামর্শ পাওয়া যায় না। প্রশিক্ষণের ব্যাপারেও কোনো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে না। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং ঋণ সুবিধা না থাকায় সন্দ্বীপ থেকে পান চাষ ক্রমান্বয়ে বিলুপ্তির পথে।’

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বায়েস সবুজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সন্দ্বীপে পান চাষের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পান চাষে সরকারি সহযোগিতা ও পৃৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার জন্য বারবার বলে আসছি। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতাই ফিরিয়ে আনতে পারে সন্দ্বীপের পানের অতীত গৌরব।’

৭১সংবাদ ডট কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
সৌদি সহায়তায় দেশের আটটি বিভাগে সব ধরণের সুযোগ-সুবিধাসহ ৮টি ‘আইকনিক মসজিদ’ নির্মিত হবে
রিজেন্ট টেক্সটাইল লিমিটেডের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ
রবির আইপিওতে ১০ গুণ বেশি আবেদন পড়েছে
৭ ডিসেম্বর শুরু হবে এনার্জিপ্যাকের আইপিওতে আবেদন
ব্লক মার্কেটে ১৮টি কোম্পানির ৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে
লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড
চট্টগ্রামের একজন ব্যবসায়ী প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পাওনা দাবি করে বিভিন্ন ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
বাংলাদেশ সম্মিলিত কবি পরিষদের কমিটি গঠন
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি নেতা মিলনকে ঢাকায় স্থানান্তর, সংগঠন ও পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া কামনা
বগুড়ার শাজাহানপুরে দীপ্ত প্রতিভা-২০২০ইং এর শুভ উদ্বোধন
পুলিশ বিভাগের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত দলটিতে ডাক পরেনি সাকিবের
রাজধানীর টিকাটুলি এলাকার সুইপার কলোনির আগুন নিয়ন্ত্রণে
স্বাস্থ্যসেবায় এভারকেয়ার গ্রুপ হসপিটাল বাংলাদেশে স্থাপন করলো অনন্য দৃষ্টান্ত
ফ্রেন্ডস' ফেডারেশন এস.এস.সি ১৯৯৮- এইচ.এস.সি ২০০০ এর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান ”সৌহার্দ্যরে ‘৯৮” অনুষ্ঠিত
Chief Advisor: A K M Mozammel Houqe MP
Minister, Ministry of Liberation War Affairs, Government of the People's Republic Bangladesh.
Editor & Publisher: A H M Tarek Chowdhury
Sub-Editor: S N Yousuf
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ৭১সংবাদ, ২০১৭
প্রধান কার্যালয় : ৫৩, মডার্ন ম্যানশন (১৪তলা), মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০
বার্তাকক্ষ : +৮৮-০২-৯৫৭৩১৭১, ০১৬৭৭-২১৯৮৮০, ০১৮৫৫-৫২৫৫৩৫
ই-মেইল :[email protected], [email protected], Web : www.71sangbad.com