মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০ ১২ কার্তিক ১৪২৭ ● ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
করোনা ভাইরাসে থমথমে ঢাকাসহ সকল জেলা জনমনে আতঙ্ক বিরাজ
জাকির সিকদার, ৭১ সংবাদ ডট কম :
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২০, ১০:৪৮ এএম আপডেট: ২৩.০৩.২০২০ ১১:৫৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 180

করোনা ভাইরাসে থমথমে ঢাকাসহ সকল জেলা জনমনে আতঙ্ক বিরাজ

করোনা ভাইরাসে থমথমে ঢাকাসহ সকল জেলা জনমনে আতঙ্ক বিরাজ

 
ঢাকা সহ সকল বিভাগীয় শহরে করোনা আক্রান্ত রোগী বাড়তে শুরু করছে যার প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পরই দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। 

করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণার পর ভাইরাসটির ঝুঁকি এড়াতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপরই ঢাকাসহ দেশব্যাপী ১৬/১৭ কোটি মানুষ বসবাসের জনবহুল সকল নগরী ক্রমশ ফাঁকা হতে শুরু করেছে।রাজধানীতে নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন। 

নেই আগের মতো যাত্রী। রাজধানীর মধ্যে বাড্ডায় এলাকায় চলতি পথে থাকা বেশকিছু রিক্সা চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় এখন যাত্রী খুবই কম।

এদিকে,করোনার প্রাদুর্ভাব এড়াতে গত দুদিন থেকে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। সরজমিনে রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। গতকাল দুপুরের পর করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে হওয়ার খবর গণমাধ্যমে আসে। সোশাল মিডিয়ায় এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুব দ্রুত পাল্টে যায় ব্যস্ত ঢাকার রাজধানীর পথচলা পরিবেশ থমতমে বিরাজ করছে।

সম্প্রতি নোবেল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রথম একজনের মৃত্যু হওয়ায় সংবাদের ভিত্তিতে এখন জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর সেই আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে বহু মানুষ গ্রামের বাড়ি ছুটছেন।

আর এখন বর্তমানে নগরবাসীর মধ্যে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় লোকজন ঝুঁকিমুক্ত থাকতে,নিজ ঘরকেই বেছে নেন এবং তেমন প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হয়না ।

নগরবাসীর মধ্যে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় লোকজন ঝুঁকিমুক্ত থাকতে অনেকেই বাসা বাড়িতে অবস্থান করছেন।
গত কয়েকদিন ধরে তাই খা খা করছে কেনাকাটার ভিড় লেগে থাকা জায়গাগুলো। ক্রেতা না পাওয়ায় শপিং মলের অনেক বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে ভিড় বেড়েছে কাঁচা বাজারে আর পাড়ার মোড়ের মুদি দোকানে। বিপর্যয় আসন্ন ধরে নিয়ে এক শ্রেণির মানুষ নিত্যপণ্য কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। কোনো বাদ-বিচার না করেই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জিনিসপত্র কিনে মজুত করছেন। নিত্যপণ্যের বিকিকিনি বেড়ে গেছে তিন থেকে চার গুণ। সুযোগ নিতে কিছু কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে নির্ধারিত দামে পন্য বিকিকিনি করতে বলা হচ্ছে বার বার। আরো বলা হচ্ছে, দেশে প্রচুর পরিমাণে পণ্য মজুদ রয়েছে। এমনকি কিছুটা আমদানি নির্ভর যেসব পণ্য সেগুলোও প্রচুর পরিমাণে আমদানি করা হয়েছে, সেগুলোও মজুদ রয়েছে। তাই কোন পণ্যের ঘাটতি হবে না। বাড়তি পণ্য কিনে মজুদ রাখার দরকার নেই। কিন্তু কে কান দেয় ওসব কথায়! বেশি দামে হলেও প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে ঘরে রাখতে ব্যস্ত অনেকেই। তাদের সবার মুখে প্রায় একই কথা, বলা তো যায় না পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়!
হতাশার ছাপ দিনমজুর মানুুষদের চোখে মুখে-নিস্তব্ধ ঢাকা শহর নেই আগের মতো যাত্রী। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ব্যস্ত নগরী ঢাকা এখন অনেক অংশ জুড়েই ফাঁকা। থমথমে রাজধানী নেই’ মানুষের জনের তেমন আনাগোনা। প্রতিটি পদ শূন্য ফাঁকা, রয়েছে সামান্য কিছু মানুষ কিন্তু এর পরেও মনে হচ্ছে শহর জনশূন্য।

এইদিকে ঢাকায় প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না এখন আর কেউ। ইতিমধ্যে অনেকেই অতিরিক্ত বাজার নিয়ে নিজ বাসায়,সহ পরিবার নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন এবং অফিসের জরুরী কাজকর্মগুলো মোবাইল ফোনে কথা বলে সমাধান দিচ্ছেন। পাশাপাশি চোখ রাখছেন দেশ-বিদেশের সংবাদপত্রের পাতা গুলোতে ।

এসময় রসিক লাল-নামে একজন রিক্সাওলা বলেন আমরা খুব চিন্তা আছি বাড়িতে টাকা পাঠাতে হবে, এমনিতেই সংসারের নানা অভাব-অনটন। আমার পরিবার আমাকে বার বার ফোন করছে সমিতির কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য।

কথার ফাঁকে, এ সময় কেঁদে ফেললেন রিক্সার চালক রসিক লাল। দুই চোখে ক্রমশই ঝরে পড়ে তার অশ্রু জল। করোনা ভাইরাস বাংলাদেশ এসে আমাদের গরিব দুঃখী ও খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষকে,খুব বিপদে ফেলেছে। তাই এখন চিন্তা করছি  ঢাকা ছেড়ে বাড়ি চলে যাব -করব শাকসবজির চাষ।সাংবাদিক বলেন, আচ্ছা আপনি কি বলতে পারেন কবে যাবে করোনা ভাইরাস বাংলাদেশ থেকে।

চালক বলেন,না, তাৎক্ষণিক- উপস্থিত রিপোর্টার ওই রিক্সা চালককে, সান্তনা দেন এবং সাংবাদিক বলেন  চাচা চিন্তার কোন কারণ নেই, বাংলাদেশ সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন,খুব শীগ্রই এই প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক থেকে আমরা সবাই মুক্তি পাবো ইনশাল্লাহ‌।

সরকার সকল পদক্ষেপ গ্রহন করেছে, সরকারী লোকের তো ছুটি নাই,কাজ করছে আপনাদের সেবায়,ভয় পাওয়ার কিছু নাই মৃত্যুর স্বাদ সাবাইর একদিন ভোগ করতে হবে।উছিলা দিয়া মানুষ মারছে আল্লাহ,তিনি নির্দোষী।
রিকশাচালক রসিক লাল,দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস ফেলে বলেন,আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বিশ্বের সকল মানব জাতিকে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে সবাইকে হেফাজত করুন আমীন।

শুধু ঢাকায় নয়, নিম্নআয়ের মানুষের জনদের এখন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে,বাংলাদেশের আনাচে কানাচে। যারা দিন আনে দিন খায় এদের যেন, দুঃখ কষ্টের সীমা নেই। তাদের একটাই আকুতি- ইয়া আল্লাহ মুক্ত করা আমাদের এই প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কবল থেকে।

তবে, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রভাব খুব তেমন একটা বেশি নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে আতঙ্কের কিছু নেই।

অপরদিকে --ফেইসবুকে সজিব ওয়াজেদ জয় বলেন,

আপনারা জানেন নভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড ১৯ একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর প্রায় ১৮০টি দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। যেহেতু এই ভাইরাসের কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি, তাই ভাইরাসটিকে ছড়িয়ে পড়া থেকে রোধ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকার দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

৪টি বাদে বাংলাদেশে আসা সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিদেশ ফেরতদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাদের বাসায় থাকতে বলা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে সজাগ আছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জনস্বার্থে আমরা মুজিববর্ষের কার্যক্রম সীমিত করেছি। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। সকল সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নিতেও আমরা প্রস্তুত আছি।

আমাদের চিকিৎসা সেবা কর্মীদের সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে আমরা তৎপর আছি। ভাইরাসটি পরীক্ষা করার সক্ষমতাও আমরা বাড়াচ্ছি। আইইডিসিআর ব্যাতিত আরও তিনটি হাসপাতলে বর্তমানে চিকিৎসার সুবিধা আছে। অন্যান্য সরকারি হাসপাতালেও এই ভাইরাসের উপসর্গসহ রোগীদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যার যার জায়গা থেকেও আমাদের অনেক কিছু করার আছে। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সকল নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। অসুস্থ বোধ করলে বাসায় থাকতে হবে। নিয়মিত সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে অথবা স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। নাকে, মুখে ও চোখে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁচি, কাশি দেয়ার সময় মুখ ঢেকে নিতে হবে। হাত মেলানো ও আলিঙ্গন থেকে বিরত থাকতে হবে। সম্ভব হলে গণপরিবহনে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে ভূমিকা রাখার সবচেয়ে কার্যকর দুটি উপায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিকভাবে দূরত্ব বজায় চলা।

বাঙালী জাতি সহনশীল ও সাহসী। অনেক বড় দুর্যোগও সফলভাবে মোকাবেলার করার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। সব নির্দেশনা মেনে চললে, এই সংকটও আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারবো। এই মুহূর্তে গুজব থেকেও আমাদের সাবধান থাকতে হবে। সকল তথ্য আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিদিনই সরকারের পক্ষ থেকে ব্রিফিং এর আয়োজন করা হচ্ছে।

আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সরকার আপনাদের পাশেই আছে। আতংকিত হবেন না, সতর্ক থাকুন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জয় আমাদের হবেই।

জয় বাংলা।



৭১সংবাদ ডট কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ইরফানকে দুই মামলায় ৬ মাস করে ১ বছরের কারাদণ্ড
বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম কমার পরও এর সুফল পাচ্ছে না দেশের জনগণ
‘কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে চলমান সংঘাতে সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েন করেছে ইরান
দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডের সব সদস্য একসাথে পদত্যাগ
হাজী সেলিমের গাড়িচালক রিমান্ডে
হাজী সেলিমপুত্র ইরফানের বাসায় ‌আগ্নেয়াস্ত্র, মদ, বিয়ারসহ ওয়া‌কিট‌কি উদ্ধার
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সমস্ত অর্জনকে টেকসই করতে আমাদের আইসিটিকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নাই : অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার
বগুড়ার শাজাহানপুরে বন্যার্তদের মাঝে নগর দীপ্ত শিখা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ত্রাণ বিতরন অব্যাহত
লক্ষীপুরে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে রাস্তা তৈরি, বাড়ছে দূর্ঘটনা, দেখার কেউ নেই
ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর শ্বশুরবাড়ির উঠোনে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে গৃহবধূর লাশ
শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ছান্নুর রোগমুক্তি চেয়ে নগর দীপ্ত শিখার দোয়া প্রার্থনাঃ
বিএনপির পুনর্গঠন ঢাকাসহ ১১টি মহানগর কমিটি ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত
২৯তম এনুয়াল শিকাগো ওপেন- অনলাইন দাবা
Chief Advisor: A K M Mozammel Houqe MP
Minister, Ministry of Liberation War Affairs, Government of the People's Republic Bangladesh.
Editor & Publisher: A H M Tarek Chowdhury
Sub-Editor: S N Yousuf
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ৭১সংবাদ, ২০১৭
প্রধান কার্যালয় : ৫৩, মডার্ন ম্যানশন (১৪তলা), মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০
বার্তাকক্ষ : +৮৮-০২-৯৫৭৩১৭১, ০১৬৭৭-২১৯৮৮০, ০১৮৫৫-৫২৫৫৩৫
ই-মেইল :[email protected], [email protected], Web : www.71sangbad.com