মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০ ১১ কার্তিক ১৪২৭ ● ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
পণ্যমূল্যের উত্তাপে নাকাল হচ্ছেন ভোক্তা। ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পেঁয়াজের পর চাল এরপর আলুর দাম লাগামহীন
ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পেঁয়াজের পর চাল, আলুর দাম লাগামহীন
এই তিনটি নিত্যপণ্য কিনতে প্রায় দ্বিগুণ বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে ভোক্তাকে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে। একাধিক সবজির দর ১০০ টাকার ওপরে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ৭১ সংবাদ ডট কম :
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৪৩ এএম আপডেট: ১৭.১০.২০২০ ১১:৫৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 46

 ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পেঁয়াজের পর চাল, আলুর দাম লাগামহীন

ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পেঁয়াজের পর চাল, আলুর দাম লাগামহীন

পণ্যমূল্যের উত্তাপে নাকাল হচ্ছেন ভোক্তা। ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পেঁয়াজের পর চাল এরপর আলুর দাম লাগামহীন। এই তিনটি নিত্যপণ্য কিনতে প্রায় দ্বিগুণ বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে ভোক্তাকে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে। একাধিক সবজির দর ১০০ টাকার ওপরে।সঙ্গে ডাল, ভোজ্যতেল, ডিমসহ বেশির ভাগ নিত্যপণ্য বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে এসব জিনিসপত্র কিনতে ভোক্তারা প্রতিনিয়ত দিশেহারা হয়ে পড়ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ।


এদিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য অনুসারে- করোনার কারণে বাংলাদেশে নতুন করে এক কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছে। এ সময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতার কারণে অধিকাংশ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। আর দেশের এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দামে মানুষ আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়ছে।


তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। এটি স্বাভাবিক নয়। তার মতে, জিনিসপত্রের দাম বাড়লে একজন আরেকজনের দোষ দেয়। তবে বিষয়টি নজরদারির দায়িত্ব সরকারের। তিনি আরও বলেন, কোনোরকম কারসাজি হলে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।


রাজধানীর নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও জিনজিরা বাজারে শুক্রবার খুচরা চাল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ দিন প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৫৬-৫৮ টাকা। যা ২০ দিন আগে ছিল ৫৩-৫৪ টাকা। বিআর ২৮ চাল বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা, আগে ছিল ৪৬-৪৭ টাকা। মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫০-৫২ টাকা, আগে ছিল ৪০-৪২ টাকা।নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, পণ্যের বাড়তি দরে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে সবগুলো পণ্যের দাম বাড়তি। কোনো পণ্যই এখন আর কম দামে কেনা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে রাজধানীতে থাকা কষ্ট হয়ে যাবে।


একইদিন রাজধানীর সর্ববৃহৎ পাইকারি আড়ত বাদামতলী ও কারওয়ান বাজারে পাইকারি চাল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৭০০ টাকা। যা ২০ দিন আগে ছিল ২ হাজার ৫৫০ টাকা। বিআর ২৮ চাল বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৩৫০ টাকা, আগে ছিল ২ হাজার ২০০ টাকা। আর স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকা, আগে ছিল ২ হাজার ৫০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক ও পাইকারি চাল ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান  বলেন, নীরবে মিলাররা প্রতি বস্তা চালে ২০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। যার প্রভাবে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে।
 ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পেঁয়াজের পর চাল, আলুর দাম লাগামহীন

ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পেঁয়াজের পর চাল, আলুর দাম লাগামহীন



তিনি জানান, কোনো অজুহাত পেলেই তারা দাম বাড়ায়। এবার সরকার বোরো ধান সংগ্রহ ঠিকমতো করতে পারেনি। মিলাররা যে যেভাবে পেরেছে ধান কিনেছে। তাই বাজার এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। যে কারণে মিলাররা সিন্ডিকেট করে সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়েছে।তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে চালের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হলেও মিলাররা তা অমান্য করছে। তারা তাদের ক্ষমতা দেখিয়ে সরকারের বেঁধে দেয়া দামে চাল বিক্রি করছে না। যার কারণে বাজারে চালের দাম কমছে না।


রাজধানীর খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল কোম্পানিভেদে সর্বোচ্চ ৫২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এক মাস আগে ছিল সর্বোচ্চ ৫১০ টাকা। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৯৪ টাকা, আগে ছিল ৮৮ টাকা। প্রতি লিটার পাম অয়েল (সুপার) বিক্রি হয়েছে ৮৯ টাকা, আগে ছিল ৭৫ টাকা। প্রতি কেজি আমদানি করা আদা বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৬০ টাকা, এক মাস আগে ছিল ২২০-২৪০ টাকা। দেশি আদা প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা, আগে ছিল ১৪০-১৫০ টাকা।


এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০-১০০ টাকা। যা ১০ দিন আগে ছিল ৮৫-৯০ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা, আগে ছিল ৬৫-৭০ টাকা। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৩৫ টাকা। প্রতি কেজি প্যাকেটজাত ময়দা বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৪৮ টাকা, আগে ছিল ৪৪ টাকা। মসুর ডাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৯৫ টাকা। যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা।


জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল জব্বার মণ্ডল  বলেন, নিত্যপণ্যের দাম কমাতে অধিদফতরের একাধিক টিম তদারকি করছে। কোনো অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কাউকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে না। আশা করি কয়েকদিনের মধ্যে দাম কমে আসবে।


এদিকে শুক্রবার সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কিছুটা কমলেও এখনও একাধিক সবজি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। এদিন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ১২০-১৪০ টাকা। প্রতি কেজি গাজর ৮০-১০০ টাকা, শিম ৮০-১২০ টাকা, শসা ৯০-১০০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হয়েছে ৮০-১০০ টাকা, বেগুন ৮০-১১০, উস্তে প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা।


চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, মহানগরীতে সবজির উত্তাপ বাড়ছেই। যে আলু কেজিপ্রতি ২২ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ৫০ টাকা। শুধু আলু নয়, সবজির দামেও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ৬০-৭০ টাকার নিচে কোনো সবজিই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি আগাম শীতকালীন সবজি বিক্রি হচ্ছে একশ’ টাকারও বেশি দরে। ফলে গরিবের ভাতের প্লেট থেকে দিন দিন উধাও হয়ে যাচ্ছে সবজি।


নগরীর একাধিক কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তারপরও সবজির দাম বাড়ছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা। শুক্রবার ১০ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ঝিঙ্গায় ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। প্রতি কেজি পটোল ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা, টমেটো দেশি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, ভারতীয় টমেটো ১৩০ টাকা, অন্যদিকে পেঁপে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা, বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা।
৭১সংবাদ ডট কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


সর্বশেষ সংবাদ
হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ইরফানকে দুই মামলায় ৬ মাস করে ১ বছরের কারাদণ্ড
বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম কমার পরও এর সুফল পাচ্ছে না দেশের জনগণ
‘কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে চলমান সংঘাতে সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েন করেছে ইরান
দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডের সব সদস্য একসাথে পদত্যাগ
হাজী সেলিমের গাড়িচালক রিমান্ডে
হাজী সেলিমপুত্র ইরফানের বাসায় ‌আগ্নেয়াস্ত্র, মদ, বিয়ারসহ ওয়া‌কিট‌কি উদ্ধার
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সমস্ত অর্জনকে টেকসই করতে আমাদের আইসিটিকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নাই : অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার
বগুড়ার শাজাহানপুরে বন্যার্তদের মাঝে নগর দীপ্ত শিখা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ত্রাণ বিতরন অব্যাহত
লক্ষীপুরে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে রাস্তা তৈরি, বাড়ছে দূর্ঘটনা, দেখার কেউ নেই
ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর শ্বশুরবাড়ির উঠোনে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে গৃহবধূর লাশ
শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ছান্নুর রোগমুক্তি চেয়ে নগর দীপ্ত শিখার দোয়া প্রার্থনাঃ
বিএনপির পুনর্গঠন ঢাকাসহ ১১টি মহানগর কমিটি ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত
২৯তম এনুয়াল শিকাগো ওপেন- অনলাইন দাবা
Chief Advisor: A K M Mozammel Houqe MP
Minister, Ministry of Liberation War Affairs, Government of the People's Republic Bangladesh.
Editor & Publisher: A H M Tarek Chowdhury
Sub-Editor: S N Yousuf
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ৭১সংবাদ, ২০১৭
প্রধান কার্যালয় : ৫৩, মডার্ন ম্যানশন (১৪তলা), মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০
বার্তাকক্ষ : +৮৮-০২-৯৫৭৩১৭১, ০১৬৭৭-২১৯৮৮০, ০১৮৫৫-৫২৫৫৩৫
ই-মেইল :[email protected], [email protected], Web : www.71sangbad.com