রোববার ১১ এপ্রিল ২০২১ ২৮ চৈত্র ১৪২৭ ● ২৭ শাবান ১৪৪২
বরিশাল জেলা মুলাদী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডাক্তারের অবহেলায় নাকের পলিপাস জনিত কারণে সুস্থ্য মেয়ের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক, ৭১ সংবাদ ডট কম :
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৫:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 489

 বরিশাল জেলা মুলাদী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডাক্তারের অবহেলায় নাকের পলিপাস জনিত কারণে সুস্থ্য মেয়ের মৃত্যু
আমি মোঃ সোহেল, পিতা-মোঃ মোশারফ কাজী, আমার স্ত্রী রিপা আক্তার গত ১৪/০২/২০২১ইং তারিখে বেলা আনুমানিক সকাল ১১ টার দিকে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাকের পলিপাস জনিত কারণে ডাঃ দেলোয়ার হোসেন, এমবিবিএস বিসিএস এর সাক্ষাৎ করেন এবং সে রক্ত এবং আস্ট্রাসোনোগ্রাম করার জন্য পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক পরীক্ষাও করানো হয়। পরবর্তীতে রিপোর্ট আসার জন্য ২ ঘন্টার মত অপেক্ষা করতে বলা হয়। রক্ত পরীক্ষা এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাম এ তেমন কোন সমস্যা নাই [যার রিপোর্ট সংযুক্ত করা হলো]। উল্লেখ্য আমার স্ত্রী রিপা আক্তারের পলিপাস জনিত সমস্যার কারণে তার নিঃশ^াস নিতে অনেক কস্ট হচ্ছিল। পরবর্তীতে সে ভর্তির জন্য রেফার করেন এবং ভর্তিও করেন যাহার বেড নং ঋই-১৩, ডাঃ দেলোয়ার হোসেন, এমবিবিএস বিসিএস সিরিয়াসভাবে না দেখে অবহেলার কারণে ততক্ষণে আরও সমস্যা বেড়ে যাচ্ছিল এমতাবস্থায় হঠাৎ এসেই আমার স্ত্রীর শরীরে স্যালাইন লাগানো হয় এবং স্যালাইনে ৬টি ইনজেকশন পুশ করা হয়। 

পরবর্তীতে আরও ২টি স্যালাইন মাজায় পুশ করা হয়। আমার শ^াশুড়ী এবং আমার মা তাকে জিজ্ঞাসা করেন ডাক্তার কি হইছে এতোগুলো ইনজেকশন দিচ্ছেন তাদেরকে কোন উত্তর না দিয়েই এক রকম খামখেয়ালীর মত সর্বমোট ৮টি ইনজেকশন পুশ করা হয় এবং বলে এখন একটু ঘুমাবে স্যালাইনের সাথে ঘুমের ঔষধ দেয়া হয়েছে। সেই ঘুমেই আমার স্ত্রীকে চির নিদ্রায় শায়িত করেছেন। পরবর্তীতে আমার মা আমাকে ফোন করে বলে সোহেল তুই আজকেই চলে আয় রিপার অবস্থায় একটু খারাপ। উল্লখ্যে আমাকে মৃত্যুর সংবাদ কেউ দেন নাই যাতে আমি সুস্থ্যভাবে ঢাকা থেকে আসতে পারি। বিশ^ভালবাসা দিবস লক্ষ্যে ঐদিন ঢাকায় অনেক জ্যাম হয়। তারপরও পৌছাতে পারি রাত আনুমানিক ২.২০ মিনিটের দিকে। এসে দেখি আমার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। তা দেখেই আমি কখন যেন সেন্সলেস হয়ে পরি আমি নিজেও জানিনা। পরবর্তীদিন অর্থাৎ ১৫/০২/২০২১ইং তারিখ সকাল ৯ টায় জানাজা দিয়ে দাফন সম্পন্ন করি। পরবর্তীতে আমি আমার মা এবং শ^াশুড়ীকে জিজ্ঞাসা করলাম কি এমন হলো যার কারণে ওর মৃত্যু হলো তারা জানালো বাবা ওর নাকি নিঃস্বাস নিতে কস্ট হয় এই জন্য স্ত্রী কাজীর হাট থানার ডাঃ টারজান এর কাছে নিয়ে যান এবং তিনি ভালভাবে দেখে অনুধাবন করতে পারে যে, তার নাকে পলিপাস হয়েছে। অর্থাৎ নাকের মাংস বেড়ে গেছে। সেই মোতাবেক কিছু ঔষধ দেন তা সেবন করার পর কোন উন্নতি না হওয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় মুলাদি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ। 

পরবর্তীতে আমি মুলাদী ফেয়ার ক্লিনিক এ রিপোর্ট নিয়ে গেলাম এবং রিসিপ্টশনিস্ট কে বললাম আমি রিপোর্ট ডাঃ সাহেবকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন আপনি প্রেশেন্ট আমি বললাম না আমার স্ত্রী সে বলল নাম আমি রিপা আক্তার সে চমকে উঠে বলল যেই মেয়েটা মারা গেছে ১৪ ফেব্রæয়ারী? আমি বললাম হ্যাঁ! পরবর্তীতে সে কাকে যেন কল দিল যে স্যাঁর ১৪ ফেব্রæয়ারী যে মেয়েটা মারা গেছে তার হাসবেন্ড আসছেন কিভাবে মারা গেছে তা জানার জন্য। আমি বললাম আপু আমি ডাক্তারকে দেখাবো রিপোর্টটা কত টাকা লাগবে? সে আবার কাকে যেন ফোন দিল এবং আমার থেকে যেন রিপোর্ট দেখাতে টাকা না নেন।  বলল আমাদের এখানে দুই বার পরীক্ষা করল সুন্দরভাবে হেঁটে রুমে গেল।  পরবর্তীতে একজন নার্স এসে আমাকে মুলাদী ফেয়ার ক্লিনিক এর একজন ডাক্তার এর রুমে নিয়ে গেলেন তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম স্যাঁর রিপোর্টটা একটু দেখে বলেন ওর কোন কিছু ড্যামেজ অথবা বিকলঙ্গ বা কোন কিছু খারাপ আছে যার দরূন মৃত্যু হবে? সে ভালভাবে দেখল এবং এক জায়গায় মার্কিং করল যে, এটা একটু কম আছে কিন্তু এর কারণে মৃত্যু হওয়ার কোনই অবকাশ নাই।

 এটা শোনার পর আমি মুলাদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ যেয়ে এখানে একজন নার্সকে জিজ্ঞাসা করলাম ডাঃ দেলোয়ার হোসেন, রুম কত নাম্বার এ বলল ৩ নং রুমে একটু সামনেই আমি ঐ রুমের সামনে যেয়ে দেখছিলাম ৩জন রোগী দেখছেন এবং আমাকে ইশারায় জিজ্ঞাসা করলেন কি? আমি বললাম আপনার হাতের কাজ শেষ করুন। যথারীতি শেষ করলেন এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন কি হয়েছে আমি রিপোর্ট টা দেখালাম দেখুনতো কি এমন সমস্যা হয়েছে যার জন্য অকালেই প্রাণ দিয়েছে মেয়েটা? সে কিছুক্ষণ পর বললেন হ্যাঁ মেয়েটাকে চিনেছি আমি সহ ঐদিন আরও ৫ ডাক্তার অন্তিম সময়ে চিকিৎসা করেছি এবং জানায় ডাঃ দেলোয়ার হোসেন না আমি হতবাক বললাম সে কোথায় বলল ছুটিতে আছেন। আমি বললাম কবে আসবেন সে? সে বলল আমিতো বলতে পারছি না। পরবর্তীতে আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে রোগীকে যে ঔষধ আপনারা দিয়েছেন তার একটা প্রেসক্রিপশন আমাকে দেন পরবর্তীতে সাইদুল স্যার আমাকে বলেন যেই ডাক্তার এর তত্ত¡াবধানে ছিল সেই ডাক্তার ছুটিতে থাকার কারণে আপনি কোন রেকর্ড নিতে পারবেন না। আমি তাকে অনেক আকুতি নিকুতি করেও মন গলাতে পারিনি তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ঐ ডাক্তার ছাড়া দেওয়া যাবে না।

 আমি পরবর্তীতে জাতীয় স্বাস্থ্য বায়তন ১৬২৬৩ নাম্বার এ কল করে আমি আমার সমস্যার কথা জানাই এবং অতিদ্রæত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সমস্যাটি আমলে নিয়ে বরিশাল সিভিল সার্জন স্যার এর নাম্বার আমাকে প্রদান করেন এবং আমি সাথে সাথেই কল দেই। সে বলল আমি খুব ব্যস্ত যা বললেন সংক্ষেপে বলুন আমি বললাম স্যার আমার স্ত্রী গত ১৪/০২/২০২১ইং তারিখে পলিপাস এর সমস্যার জন্য সুস্থ্য মেয়েটি হসপিটাল এ গেল আর লাশ হয়ে সন্ধ্যায় ফিরে এল। এটা শোনার সাথে সাথে সিভিল সার্জন স্যার আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন আপনি এখন কোথায় আছেন? আমি বললাম স্যার আমি হসপিটাল এর সামনেই আছি। সে সাথে সাথে বলল দেখেন ওখানে সাইদুল সাহেব আছে কিনা? তার রুম এ যান আমি রুম এ ঢুকতে যেয়ে পািিন তার পিএস আামকে ঢুকতে দেন নাই। এর মধ্যেই বরিশাল সিভিল সার্জন স্যার আমার কলটি কেটে দিয়ে পরে সাইদুল সাহেবকে ফোন দেন এবং বলে দেন যে সে যা চায় তা দেওয়ার জন্য অর্থাৎ আমি যা চাই তা যেন দেন।

 পরবর্তীতে সাইদুল স্যার আমাকে রুম এ ডেকে নেন এবং একজন নার্সকে বলেন রেকর্ড রুম থেকে প্রেসক্রিপশন আনার জন্য। নার্স অনেক বিরুক্তভাব নিয়ে আমাাকে বলেন এইখানে বসে থাকেন আমি প্রায় ৩০ মিনিটের মত বসে থাকি। তারপর অনেক কথা শোনায় নার্স আমাকে বলে তখন নেন নাই কেন এখন জালাইতে আসছেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করছি আপনার কখনও আপন মানুষ মরছে? সে আরও ক্ষেপে গিয়ে আমাকে যা তা বলে পরবর্তীতে ডাঃ দেলোয়ার হোসেন সাহেবের রুমে থাকা ডাক্তার আমাকে সহযোগিতার করার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেন এবং বলেন আপনি এটা মোবাইলে ছবি তুলে নেন। আমি যখনই ছবি তোলার জন্য মোবাইল বের করে ছবি তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছি এমন সময় ঐ নার্স আমার থেকে টান দিয়ে রিপোর্টটি নিয়ে নেন এবং অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ঐ ডাক্তার বলেন আচ্ছা আমি হুবুহু লিখে দেই প্রেসক্রিপশনটি আমি তাতে রাজি হই। সেই মোতাবেক সে আমাকে ৬টা ইনজেকশনের নাম লিখে দেন। আমি জিজ্ঞাসা করি ইনজেকশন কি জন্য দেওয়া হয়েছে? সে আমাকে ঐভাবে বোঝাতে পারেন নি। এখানে উল্লেখ থাকে যে, মোবাইলে অস্পষ্টভাবে আমি ছবি তুলতে সক্ষম হই। যা সংযুক্ত করে দিলাম। এখানে আরও উল্লেখ থাকে যে, ডাঃ দেলোয়ার হোসেন এর সাথে মোবাইলে কল করি এবং মৃত্যুর ব্যাপারে জানতে চাই। সেই ব্যাপারে কিছু না বলে সে বলে করণার কারণে আপনার চাকুরী চলে গেছে এবং আপনার স্ত্রীর ৮/১০ দিন আগে এবোয়েশন হয়েছে। আমি বললাম আমাদের বাচ্চা নেওয়ার প্ল্যান ছিল আরও ২ বছর পর এবং আমার স্ত্রী গর্ববর্তী ছিলনা আর তা ছাড়া আমি গত ১৬ই ডিসেম্বর’২০২০ইং এ বাড়ী যাই। 

আর ঐ সময় আমার স্ত্রীর মিনিষ্ট্রেশন চলছিল আমাদের মধ্যে শারিরিক কোন সম্পর্ক হয়নি। পরে সে বলে আমিতো জানিনা নার্সরা বলছে তখন আমি বললাম তাহলে  আপনি কি অনুমানের উপর বলছেন এইগুলো তার উত্তর সে দিতে পারে নাই। পরবর্তীতে আমি বললাম আপনি চেম্বারে কবে আসবেন সে বলল ০২/০৩/২০২১ইং তারিখের দিকে। আমার স্ত্রীকে আপনারা কি ইনজেকশন দিয়েছেন তা জানা আমার অধিকার আছে। তাহলে আপনারা প্রেসক্রিপশন দিতে চাচ্ছেন না কেন? মৃত্যুর বিষয়বস্তু বাদ দিয়ে অন্যান্য বিষয় নিয়ে আমাকে শুধু বোঝাচ্ছে। আপনারা যদি সঠিকভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করেন তবেই বুঝতে পারবেন অবহেলার জন্য মৃত্যু হয়েছে।আমার উদ্দেশ্যে সরকারী কর্মকর্তাদের ছোট না করা আমি চাই আমার মত এমন যেন অবহেলার কারণে আর কারও মৃত্যু না হয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আপনারা আওয়াজ তুলুন এবং যারা অবহেলা করছেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উল্লেখ্য যত ধরণের প্রমান প্রয়োজন সব কিছু সংযুক্ত করা হইল।  

৭১সংবাদ ডট কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
মামুনুল হকের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ নিখোঁজ
সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় দাঙ্গা হাঙ্গামা করার অভিযোগে হেফাজত লোকমান আমিনকে গ্রেফতার
চীনের জিনজিয়াংয়ে কয়লা খনিতে আটকা পড়েছেন ২১ শ্রমিক
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন বন্ধ ঘোষণা
মিয়ানমারে জান্তা আগ্রাসনে প্রাণ হারালো ৮০’র বেশি বিক্ষোভকারী
১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রিন্স ফিলিপের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া
চলমান লকডাউন থাকবে ১২-১৩ এপ্রিল পর্যন্ত: কাদের
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
লক্ষীপুরের বশিকপুরে সৌদি প্রবাসীর বসতঘরে ডাকাতি
এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম এর ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ড. মো: সেলিম উদ্দিনসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ
লকডাউনের প্রথম দিনে দেশে করোনাভাইরাসে ৫২ জনের মৃত্যু
শেষ মিনিটে দেম্বেলের গোলে জয় পেয়েছে বার্সা
বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস ২০২০ এর মিক্সড ক্লাসিক্যাল দলগত দাবা ইভেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শেষ
এসিআই দীপ্ত কৃষি অ্যাওয়ার্ড ২০২০ অর্জন করায় পুসাসের পক্ষ থেকে ডাঃ রায়হান পিএএ কে অভিনন্দন
ওয়ালটনের ‘ব্র্যান্ডিং হিরোস’ অ্যাওয়ার্ড পেলো ৬০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান
Chief Advisor: A K M Mozammel Houqe MP
Minister, Ministry of Liberation War Affairs, Government of the People's Republic Bangladesh.
Editor & Publisher: A H M Tarek Chowdhury
Sub-Editor: S N Yousuf
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ৭১সংবাদ, ২০১৭
প্রধান কার্যালয় : ৫৩, মডার্ন ম্যানশন (১৪তলা), মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০
বার্তাকক্ষ : +৮৮-০২-৯৫৭৩১৭১, ০১৬৭৭-২১৯৮৮০, ০১৮৫৫-৫২৫৫৩৫
ই-মেইল :[email protected], [email protected], Web : www.71sangbad.com