বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ২ আষাঢ় ১৪২৮ ● ৫ জিলক্বদ ১৪৪২
সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে ‘ভাওতাবাজি পরিষ্কার’: মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক, ৭১ সংবাদ ডট কম :
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১, ৩:১৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 148

সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে ‘ভাওতাবাজি পরিষ্কার’: মির্জা ফখরুল

সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে ‘ভাওতাবাজি পরিষ্কার’: মির্জা ফখরুল

২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে ‘ভাওতাবাজি পরিষ্কার’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শুক্রবার (৪ জুন) সকালে দলের পক্ষ থেকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।মির্জা ফখরুল বলেন,‌ ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিপাদ্য শব্দমালার মাঝেই এবারের বাজেটের ভাওতাবাজি পরিষ্কার। কারণ করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন গত ১৮ মাস ধরে অচল। এর মধ্যে অপরিকল্পিত লকডাউনের নামে শাটডাউনে নিম্ন ও নিম-মধ্যবিত্ত মানুষদের জীবন চূড়ান্তভাবে থমকে গেছে। তাই সুস্পষ্টভাবে মানুষের জীবন-জীবিকার কথা মাথায় না রেখে কেবল অর্থনীতির নানা তত্ত্ব ও বিশাল সংখ্যার আর্থিক উপস্থাপনার মাধ্যমে কার্যত জনগণের সাথে এক ধরনের ভাওতাবাজি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মহামারিকালে মানুষের জীবন-জীবিকার স্বাভাবিক গতি ফিরে পেতে ও বেঁচে থাকার নিশ্চয়তায় চলমান স্বাস্থ্য পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এটা একটি অবাস্তবায়নযোগ্য কাল্পনিক ও কাগুজে বাজেট ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণকে করোনা সংকট থেকে রক্ষার দিকনির্দেশনা নেই। এটি দুর্নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার বাজেট। জনগণের সমর্থনবিহীন সরকারের রাষ্ট্রের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তাই এ বাজেটে জনস্বার্থের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এটি দুর্নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার বাজেট। বিদেশি ঋণ জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে পরিশোধ করা হবে। সার্বিকভাবে বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পথরেখা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করছি। ঘোষিত বাজেটে অপচয়, অব্যবস্থাপনা বন্ধ করে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ হয়নি। বরং এই সরকারের সময় দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন এবং জবাবদিহির যে ঘাটতি রয়েছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে বাজেটে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এবারের বাজেট কেবল বার্ষিক হিসাব-কিতাবের বাজেট হওয়ার কথা নয়। বাজেট হওয়া উচিত ছিল ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতিমালার পথনির্দেশনা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বাজেট। ভবিষ্যতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের মডেল কী হতে পারে, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বাজেটের ফোকাস কী হবে, তার পথনির্দেশনার বাজেট। কিন্তু সরকার সেদিকে যায়নি।তিনি বলেন, এবারের বাজেট হচ্ছে জিডিপির মাত্র ১৭.৪৬ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য মূল বাজেট ছিল পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির ১৭.৯০ শতাংশ। এ হিসাবে বাজেটের প্রকৃত আকার বৃদ্ধির পরিবর্তে সংকুচিত হয়েছে।ফখরুল বলেন, বাজেট নাকি দেয়া হয়েছে ‘মানুষের জন্য’। শুনতে ভালো শোনায়। কিন্তু বাজেটে দিন আনে দিন খায় এমন গোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষায় নগদ অর্থের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নেই। এ খাতে পুরাতন ত্রুটিপূর্ণ ব্যাংকনির্ভর ঋণের কথাই বলা হয়েছে। কারোনাকালীন এই বাজেটে স্বাস্থ্য এবং হতদরিদ্র ও শ্রমিকদের প্রত্যাশিত প্রণোদনা উপেক্ষিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট দেখে মনে হবে, সরকার মনে করে না, আগামী দিনেও জনগণের ভোটের প্রয়োজনীয়তা আছে তাদের। বাজেটে প্রণোদনার বরাদ্দ ৫ থেকে ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছিল বিএনপি। অনেক দেশে বাজেটে প্রণোদনার বরাদ্দ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু সরকারের বরাদ্দ ২ শতাংশের নিচে। এটা লোক দেখানোর প্রণোদনা। এটা স্বচ্ছলতা এবং ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে না।তিনি বলেন, করোনায় দেশের বেকার এবং আয় কমে যাওয়া মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা দেয়া উচিত। গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান কর্মসূচির মতো কিছু উদ্যোগ নেয়া দরকার। কারণ, শহরে কাজ হারিয়ে অনেকে গ্রামে চলে গেছেন। বাজেটে এদের বাঁচানোর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা নেই। এদিকে সরকারি ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে কেবল অর্থ মন্ত্রণালয়ের রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দ ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের পুরোটাই বাস্তবায়িত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশের ওপরে ধরা হয়েছে, কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির জন্য যে পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার, তা কীভাবে হবে বলা হয়নি। বিশেষ করে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ কয়েক বছর ধরে এক জায়গায় আটকে আছে। করোনার কারণে তা আরও কমে গেছে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ না হলে প্রবৃদ্ধি বাড়বে কীভাবে? শুধু সরকারি বিনিয়োগ দিয়ে হবে না। আবার গত এক বছরে অনেক সরকারি প্রকল্পে ধীরগতি দেখা গেছে। এই বাস্তবতার সঙ্গে প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ মেলে না। সরকারি ব্যয় আশানুরূপ হয়নি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রতিবছরই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়। এবার তা আরও কম হয়েছে।তিনি বলেন, বাজার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য অনেক আগেই সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেছে। গত এপ্রিলে গড়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.৫৬%। এই বাজেটে মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫.৩%। এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবভিত্তিক নয়। সরকারের প্রক্ষেপণ আর বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৩ কোটি টাকা। ঘাটতি ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দায়িত্ব ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের। পরে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৩ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা করা হয়। তবে সংস্থাটি ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সংগ্রহ করেছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকেও সংগ্রহ ১ লাখ ৩ হাজার ৪১৭ কোটি কম। আসছে বাজেটে রাজস্বের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮ দশমিক ২ শতাংশ। যা কল্পনাপ্রসূত বা অবাস্তব। আয়ের উৎসের এই দুর্বলতা নিয়েই গতানুগতিকভাবে বড় করা হয়েছে বাজেট।ফখরুল বলেন, যে প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাদের জন্য বাজেটে কোনো পদক্ষেপ নেই। রফতানি খাতে ২ শতাংশ ভর্তুকির সুবিধা পাবে অর্থ পাচারকারীরা। বড় প্রকল্পে লুটপাটের সুযোগ বেশি, তাই সরকার গরিবদের প্রণোদনায় আগ্রহ দেখায় না। বাজেটে কোনো ভিশন নেই এবং করোনাকালে এ বিপদের সময় অর্থমন্ত্রী কোনো ক্যারিশমা দেখাতে পারেননি।
৭১সংবাদ ডট কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুরোদমে চলবে সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
চীন-ইন্দোনেশিয়ায় পৃথক মাত্রার ভূ'মিকম্প
এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের চূড়ান্ত পর্বে সরাসরি খেলবে বাংলাদেশ
স্বামীকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ত্ব-হার স্ত্রীর সাবিকুন্নাহারের আকুতি
চলমান লকডাউন ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানের হয়েছে
দেশে করোনায় নতুন ৬০ জনের মৃত্যু
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৩৭২টি কোম্পানির ৫৭ কোটি ৪৩ লক্ষ ১৩ হাজার ৯৮৬ টি শেয়ার হয়েছে
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
নৌকা'র মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হোসাইন সাদাব অন্তু
এসআই পদে জবির ১০৬ শিক্ষার্থীর নিয়োগ
কালিয়াকৈরে বন বিভাগের অবৈধ জমি দখল রোধ কল্পে বিশেষ সভা
বর্ষা-বরণ: এ কে সরকার শাওন
নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে জেলা প্রশাসকের মত-বিনিময় ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ
সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত
টাঙ্গাইলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১০টি দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই
Chief Advisor: A K M Mozammel Houqe MP
Minister, Ministry of Liberation War Affairs, Government of the People's Republic Bangladesh.
Editor & Publisher: A H M Tarek Chowdhury
Sub-Editor: S N Yousuf
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ৭১সংবাদ, ২০২১
Head Office: Modern Mansion 9th Floor, 53 Motijheel C/A, Dhaka-1223
News Room: +8802-9573171, 01677-219880, 01859-506614
E-mail :[email protected], [email protected], Web : www.71sangbad.com