বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
শিরোনাম: ভোটারের আঙুলের ছাপ না মিললে প্রিসাইডিং অফিসার কী করেন, জানালেন আলমগীর       ইউজিসি’র ১৬৩তম পূর্ণ কমিশন সভা অনুষ্ঠিত       ওয়ালটন-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল-২০২২ শ্যুটিংয়েও রুমেল খান সেরা       প্রতিদিনের সুস্থতায় আপনার অনন্য সঙ্গী দেশের বাজারে গ্যালাক্সি ওয়াচফাইভ নিয়ে এলো স্যামসাং       বাজারে গ্যালাক্সি সিরিজের নতুন ডিভাইস গ্যালাক্সি এফ২২       পাটখাতের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও রপ্তানী বাণিজ্য সম্প্রসারণে অংশীজনদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে       দেশে নদী খননের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিকল্পনা নিয়ে এনার্জিপ্যাকের ওয়েবিনার আয়োজন      
মহররম ও আশুরা : মুসলিম উম্মাহর করণীয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০২২, ১২:৫২ পিএম |

মহররম ও আশুরা : মুসলিম উম্মাহর করণীয়

মহররম ও আশুরা : মুসলিম উম্মাহর করণীয়

সম্মানিত মাস মহররম ও বিশেষ দিন আশুরা। এ মাস ও দিনের মর্যাদা বিশেষ কারণে অন্য মাস ও দিনের তুলনায় বেশি। মহররম মাস ও আশুরায় মুসলিম উম্মাহর রয়েছে বিশেষ কিছু করণীয়। সেগুলো কী?

মহররম হিজরি সনের প্রথম মাস। এ মাসের ১০ তারিখ মর্যাদাপূর্ণ দিন আশুরা। এ দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন স্বয়ং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মাসটির করণীয় কী হবে? কী করতে হবে? তাও সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা দিয়েছেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

আশুরার দিনের স্মরণে ইসলাম কিছু বিধিবিধান পালন ও বাস্তবায়ন ঈমানের একান্ত দাবি। আবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষিত ইবাদত-বন্দগি, রোজা, তাওবা-ইসতেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে এ দিনের ফজিলত ও মর্যাদার বিবরণ পাওয়া যায়। হাদিসের বর্ণনায় ওঠে এসেছে সেসব ফজিলত ও মর্যাদার কথা।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যদি রমজানের পর আরও কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মহররমে রোজা রাখ। কেননা এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেন। ভবিষ্যতেও আরও অনেক মানুষের তাওবা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)

হাদিসে ঘোষিত এ বিশেষ দিনটিকে ইসলামি চিন্তাবিদগণ ১০ মহররমের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। সে আলোকে আশুরার দিন রোজা পালন যেমন অনেক বড় ফজিলতপূর্ণ তেমনি মহররম আল্লাহর মাস হিসেবে অনেব বড় মর্যাদার মাস। তাই আশুরা ও এ মাসে তাওবা-ইসতেগফারসহ ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করাই উত্তম।

আশুরায় মুসলিম উম্মাহর করণীয়

১. আশুরার দিন রোজা পালন করা।

২. রোজা রেখে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হওয়া।

৩. মাসব্যাপী তাওবা-ইসতেগফার ও দোয়া পড়া।

৪. যে দোয়া ও ইসতেগফারগুলো বেশি পড়া জরুরি, তাহলো-

> اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ ، وَالإِيمَانِ ، وَالسَّلامَةِ ، وَالإِسْلامِ ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালঅমাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি।’ (আল-মুঝাম আল আওসাত)

> رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا، وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ

উচ্চারণ : রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)

অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’

> أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إلَهَ إلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ

উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি; রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

> أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

বিশেষ একটি কারণেও মহররম এবং আশুরা ত্যাগ ও কোরবানির মাস ও ক্ষণ। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের প্রায় ৫০ বছর পর ৬১ হিজরীর ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে ঘটেছে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। যে ঘটনায় মুসলিম উম্মাহর হৃদয় থেকে আজও রক্ত ঝরছে। সেদিন ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে হজরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু শাহাদাতবরণ করেছিলেন।

হজরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এ শাহাদাতের ঘটনা অনেক বড় মর্যাদার। আর এতে রয়েছে মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক বড় শিক্ষা, প্রেরণা ও পরীক্ষা।

অনেকে মনে করেন, ইসলাম অপূর্ণাঙ্গ ছিল, আর তার পূর্ণতা এসেছে হজরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পবিত্র শাহাদাতের মাধ্যমে। যদি বিষয়টিকে এমন মনে করা হয় তবে তা হবে মারাত্মক ভুল। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের আগে ইসলামি শরিয়ত পরিপূর্ণ হয়েছে। যা কেয়ামত পর্যন্তই সংরক্ষিত থাকবে। এতে সংযোজন-বিয়োজনের কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং এমন বিশ্বাস থেকে মুক্ত থাকতে হবে যে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পরে সংঘটিত কোনো মুসিবত বা আনন্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো দিন বা কোনো মাসের নতুন কোনো ফজিলত বা নতুন কোনো বিধান আবিষ্কার করা যাবে না। যদি কেউ এমনটি করে তবে তা হবে সুস্পষ্ট গোমরাহী। যার পরিণাম জাহান্নাম।

তবে ইসলামের জন্য ইমাম  হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর এ আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য ইসলাম রক্ষায় প্রেরণা ও শিক্ষা। ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেঁচে থাকাও অনেক বড় অনুপ্রেরণা এবং পরীক্ষা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আশুরার রোজা পালন করার তাওফিক দান করুন। মুহররম মাসব্যাপী ক্ষমা প্রার্থনায় বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করার তাওফিক দান করুন। দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি অন্যায় রুসুম রেওয়াজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।








Chief Advisor:
A K M Mozammel Houqe MP
Minister, Ministry of Liberation War Affairs, Government of the People's Republic Bangladesh.
Editor & Publisher: A H M Tarek Chowdhury
Sub-Editor: S N Yousuf

Head Office: Modern Mansion 9th Floor, 53 Motijheel C/A, Dhaka-1223
News Room: +8802-9573171, 01677-219880, 01859-506614
E-mail :[email protected], [email protected], Web : www.71sangbad.com