সোমবার ১৫ এপ্রিল ২০২৪ ২ বৈশাখ ১৪৩১
শিরোনাম: সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের মাঝে ইফতার বিতরণ করল উইনসাম স্মাইল ফাউন্ডেশন       অসংক্রামক রোগে মৃত্যু বাড়ছে, মোকাবেলায় বাড়ছে না বরাদ্দ       ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ৩৩তম মিলিয়নিয়ার হলেন রাজশাহীর মাদ্রাসা শিক্ষক আমিনুল       জাপানের বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড সনি’র জেনুইন পণ্য এখন চট্টগ্রামে       এয়ার টিকিট ফ্রি পাওয়ার সুযোগ       ৪৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ১১৭৩২       দু'দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ      
ডাঃ আসাদের ক্ষমতার দাপটে পিষ্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
আবুল হোসেন সিকদার
প্রকাশ: রোববার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ২:৪৩ পিএম আপডেট: ১৮.১২.২০২২ ৬:০৭ পিএম |

ক্ষমতার পাহাড়ে বসে ডা: আসাদুজ্জামান পিরোজপুরের নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদে দীর্ঘ ১১/১২ বছর কর্মরত থেকে দুর্বার গতিতে অনিয়ম চালিয়ে আসছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে  অসংখ্যবার অভিযোগ উঠায় তাকে ১০আগষ্ট-২০২২ তারিখে বদলী করে প্রজ্ঞাপন জারি করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ডাঃ আসাদুজ্জামানের ক্ষমতার দাপটে
পিষ্ট হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ২৬ দিনের মাথায় সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে তাকে পূর্বের পদে ও স্থানে বহাল রাখার নতুন প্রজ্ঞাপন জারী করতে বাধ্য হয়। তবে ক্ষমতার সাথে প্রায় অর্ধকোটি টাকা খরচও করেছেন এই বদলী আদেশ ঠেকাতে এমন কথাও ভেসে বেড়াচ্ছে পিরোজপুরের বাতাসে।

এতো টাকায় বদলী ঠেকিয়ে লাভ কি এমন প্রশ্নের উত্তরে ডাক্তারি বানিজ্য অর্থাৎ তিনি তার নির্ধারিত ক্লিনিকে প্রতিটা ডেলিভারী সিজারের জন্য ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিল নিয়ে থাকেন। ৩/৪ মাসেই এই টাকা উঠে আসবে। তাই এমন মধু ছেড়ে স্বর্গে যেতেও নারাজ ডা: আসাদুজ্জামান।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ডা: আসাদুজ্জামান নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদে দীর্ঘ ১১/১২ বছর কর্মরত। একজন সরকারী কর্মকর্তার একই স্থানে সর্বোচ্চ ৩ বছর সেবা প্রদান করা চাকুরীর বিধি বিধান থাকলেও তার বেলায় ঘটেছে উল্টো। একই জায়গায় একযুগ কাটিয়ে আবার সেখানেই বহাল থাকার জন্য বদলীর আদেশ বাতিল করে
দেখিয়ে দিলেন ক্ষমতার ঠেলা। বিপাকে পড়েছে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা। কারন ১২ বছর পরের বদলীর অর্ডার ২৬ দিনেই বাতিল করানো ক্ষমতা আলাদিনের দৈত্য ছাড়া কে আর রাখে। এতে ডা: আসাদুজ্জামানের ডাক্তারি বানিজ্য পূর্বের মতোই শুরু হয়েছে। আর এসব নিয়ম নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের সচিবের নিকট অভিযোগও জমা পড়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডা: আসাদুজ্জামানকে নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১০আগষ্ট-২০২২ তারিখে বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাক, কান, গলা বিভাগে বদলি করা হয়। প্রজ্ঞাপন জারির ৩ দিনের মধ্যে বদলীকৃত স্থানে যোগদানের আদেশ দেয়া থাকলেও তিনি বদলির স্থানে যোগদান না করিয়া ৯আগষ্ট-২০২২ তারিখে বৌদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি থাকায় ৮ই আগষ্ট ব্যাকডেটে মেডিকেল সার্টিফিকেট ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছ থেকে ছুটি গ্রহন করে বদলি আদেশ বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে তদবির চালান। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারির ৩দিনের মধ্যে নিয়ম থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফিরোজ কিবরিয়া অফিসিয়াল ভাবে তাকে কম্পিউটার থেকে মুড আউট করেন নাই। বরং ডাক্তারদের রোগী দেখার কক্ষ স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও ডা: আসাদুজ্জামানের রুমের নেইমপ্লেট না খুলে কক্ষটি তালাবদ্ধ করে রাখেন। টিএইচ ডাঃ ফিরোজ কিবরিয়ার কাছে কক্ষটি
বন্ধ রাখার কারন জানতে চাইলে জানানো হয় ডাঃ আসাদ তদবির করে আবার ফিরে আসবেন বিধায় কক্ষটি কাউকে দেওয়া হচ্ছে না।

 ডাঃ আসাদুজ্জামানের পারসোনাল বেতনভুক্ত দালাল সজিব এবং রুহুল হাসপাতালে আসা রোগীদেরকে নির্দিষ্ট ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। আর ডা: আসাদ ঐ ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। পদবীতে আবাসিক মেডিকেল অফিসার হলেও বরিশালে বাসা নিয়া থাকেন। তাই তিনি বেলা ১১ টায় কর্মস্থলে আসেন এবং বিকাল ৫ টার পূর্বেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন । এতে হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। অফিসিয়াল কাজকর্মেরও বিঘ্ন ঘটে। যতটুকু সময় কর্মস্থলে থাকেন সেই সময়টুকু চেম্বারে বসে দুইশত টাকা ভিজিট ফিতে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। বেতনভুক্ত দালাল সজিবের মাধ্যমে টাকা গ্রহন করেন এবং সিরিয়াল লিখার কাজ করেন। রুহুল ব্লাড প্রেসার মাপেন।

 ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিগণ ডাক্তারের চারপাশ ঘিরে বসেন, এতে মহিলা রোগীরা রোগের কথা সঠিক বলতে পারেন না । পরীক্ষা নিরিক্ষার কাগজ ফারমাসিয়া ফারমাসিউটিক্যাল লিঃ এর প্রতিনিধি ডাবলু এবং গ্লোাব ফারমাসিউটিক্যাল লিঃ এর প্রতিনিধি আল আমীন এবং ইনসেপ্টা ফারমাসিউটিক্যাল এর প্রতিনিধি তার আপন ভাই স্বপন এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ও ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন। অন্য কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট নিয়া গেলে ডা: আসাদ সেই
রোগীদের দেখেন না, পরীক্ষার কাগজপত্র ছুড়ে ফেলেন এবং হেনস্থা করেন। ডেলিভারি রোগী আসলে সেবিকাদের নিকট রোগী প্রতি ২০০০/= (দুই হাজার) টাকা দাবি করেন । টাকা দিতে না পারলে সেবিকাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন এবং বদলি করার হুমকি দেন। আর এসব ডেলিভারি রোগীদের ভয় দেখাইয়া তার নির্দিষ্ট ক্লিনিকে নিয়া নরমাল ডেলিভারি না করিয়া নিজেই সিজার করেন। এমন রোগী প্রতি ১ হাজার টাকা কমিশন দেন দালাল আল আমিন ও ভাবলুকে। দীর্ঘ এক যুগ এই হাসপাতালে থাকার কারনে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠেছে।

 একারনে সাধারন রোগীরা তার অনিয়ম প্রতিবাদ করতে পারে না। তার মাসিক আয় প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা । তাই ডাঃ আসাদুজ্জামান এই হাসপাতালে থাকার জন্য এতোটা মরিয়া। সে দম্ভোক্তি করে বলতেন বদলি আদেশ বাতিল করতে
প্রয়োজনে ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করবেন। একারনেই ২৬ দিনের মাথায় তার বদলি আদেশ বাতিল করে আনেন এবং স্ব-স্থানে ও স্বপদে বহাল থেকে আরো বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার কারনে হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তার, সেবিকা, এবং অন্যান্য কর্মচারীদের এখানে চাকুরি করা দুরূহ ব্যাপার হয়ে পড়েছে। সে এতোই প্রভাবশালী ও ভয়ঙ্কর যার কারনে কেউ তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা সাহস পায় না। এ ব্যাপারে ডা: আসাদুজ্জামান এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলে এব্যাপারে আপনার সাথে পরে কথা বলব, আমি এখন একটু ব্যস্ত আছি। বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।






আরও খবর


Chief Advisor:
A K M Mozammel Houqe MP
Minister, Ministry of Liberation War Affairs, Government of the People's Republic Bangladesh.
Editor & Publisher: A H M Tarek Chowdhury
Sub-Editor: S N Yousuf

Head Office: Modern Mansion 9th Floor, 53 Motijheel C/A, Dhaka-1223
News Room: +8802-9573171, 01677-219880, 01859-506614
E-mail :[email protected], [email protected], Web : www.71sangbad.com