শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ ২৯ আষাঢ় ১৪৩১
শিরোনাম: বন্যা পরিস্থিতিতে সিলেটের পর্যটন খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি       কোটা আন্দোলনে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা : আইনমন্ত্রী       রাজধানী ঢাকায় ৩ ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ       নেপালের মহাসড়কে ভয়াবহ ভূমিধস নদীতে ছিটকে পড়ল দুই বাস, নিখোঁজ ৬৩       আওয়ামী লীগেও কোটার বিরুদ্ধে মত রয়েছে        পিএসসি কর্মকর্তাদের শতকোটি টাকার বেশি দুর্নীতি        অবরুদ্ধ গাজা উপতক্যায় ইসরাইলি হামলায় আরও ৫০ ফিলিস্তিনি নিহত       
ন্ডার্ড চার্টার্ড ও কোরিয়ান বিজনেস সংলাপ
বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন আরও বেগবান করা প্রয়োজন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৬:০৬ পিএম |

দেশে অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ প্রবাহ ও টেকসই অর্থায়নকে আরও বেগবান করার ওপর জোর দিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশকে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার সুযোগ রয়েছে  ।

‘থ্রাইভ ইন বাংলাদেশ: অ্যাকশনেবল ইনসাইটস অ্যান্ড সল্যুশনস ফর কোরিয়ান বিজনেস’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংলাপ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে দেশের অন্যতম বেসরকারি ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, বাংলাদেশে কোরিয়া প্রজাতন্ত্র দূতাবাস, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ ব্যাংক ও কোরিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (কেবিসিসিআই)। 


অনুষ্ঠানে দেশে কোরিয়ার ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ প্রবাহ ও টেকসই অর্থায়নকে আরও বেগবান করার ওপর জোর দেন বক্তারা। দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে কোরিয়ার বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার ওপর আলোচনা করা হয়। সংলাপের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা নীতিনির্ধারক ও খাতসংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। 


স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিইও নাসের এজাজ বিজয় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধিতে অবিরাম সহযোগিতার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের চতুর্থ বৃহত্তম উৎস হিসাবে দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে কোরিয়া। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড এ দুই দেশের পারস্পারিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশে কোরিয়ার বিনিয়োগে বৈচিত্র্য বৃদ্ধির আরও সুযোগ রয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, কার্যকরভাবে বিনিময় হারের পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ ও অনিষ্পন্ন বিষয়গুলোর সমাধানের সুযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সাথে টেকসই অর্জন ও বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতিনির্ভর দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করছে কোরিয়া। আলোচনায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সহযোগিতা, তহবিলনির্ভর প্রকল্প, কোরিয়ান সরকারের কাছ থেকে গৃহিত ঋণ এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের বিষয়গুলো এসেছে। যদিও বাংলাদেশে শ্রমিক খরচ কম, কিন্তু ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তির যুগে অন্যান্য দিকেও দেশটির সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশকে অবশ্যই ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে হবে। গুণগত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।’


বিডা’র নির্বাহী সদস্য (আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রচার) মোহসিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের শক্তিশালী নেটওয়ার্কিং ও বিডা’র বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রচেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করা আমাদের লক্ষ্য। বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা এবং বিভিন্ন খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা আমাদের উদ্দেশ্য। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে আমরা বিশ্বব্যাংকের সুপারিশকৃত বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়ন করেছি এবং বিডা’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচিও তৈরি করেছি।’ 


তিনি ১২৪টি পরিষেবা সম্বলিত বিডা’র অনলাইন ওয়ান-স্টপ সার্ভিস পোর্টালে স্বাগত জানান। বাংলাদেশ বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচিতে সংস্কারের সাতটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছেকোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সির মহাপরিচালক স্যামসু কিম বলেছেন, ‘কোরিয়ার কোম্পানিগুলো ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে বিনিয়োগ করেছে। তবে অন্যান্য উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ এখনও কম। টেক্সটাইল শিল্পের জন্য কৃত্রিম ফাইবারের সাপ্লাই চেইনের মতো শিল্প অবকাঠামো উন্নত করা অপরিহার্য। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান ও কর প্রক্রিয়াকে সহজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, লাইসেন্সিং, প্রশাসনিক পদ্ধতি ও শুল্কছাড়পত্রে বিলম্ব কমানে গেলে বাংলাদেশকে বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে এবং একটি অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগের পরিচালক আবু ছালেহ মুহম্মদ সাহাব উদ্দীন বলেন, ‘কোরিয়া বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী। কোরিয়ার একাধিক প্রতিষ্ঠান বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ সেমিনার আয়োজনের জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ ব্যাংক জুন ২০২৩ নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা যে কোনো স্থান থেকে বিনিময় ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে বৈদেশিক মুদ্রায় ইকুইটি তহবিল ধরে রাখতে পারবেন। বিনিয়োগকারীরা তাদের লভ্যাংশ বাংলাদেশের অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে পারবেন এবং এই অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালেন্স বিদেশে পাঠাতে বা আরও পুনঃবিনিয়োগ করতে পারবেন। 


এছাড়া বিনিয়োগকারীরা মূল্য প্রদর্শন করে যেকোনো ক্রেতার কাছে শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন।  বিনিয়োগকারীরা এখন বিডা’র ওএসএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অস্থায়ী অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। ব্যক্তিগত উপস্থিতি বা স্থানীয় সহায়তা প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশে বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় ব্যাংক থেকে চলতি মূলধন ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণসহ নমনীয় অর্থায়নের সুযোগ নিতে পারছে। কোরিয়ার সংস্থাগুলি বিডা নির্দেশিকা অনুসারে প্রকল্প-সংলগ্ন শাখা স্থাপন করতে এবং তাদের সদরদপ্তর থেকে পুঁজি স্থানান্তর করতে পারে।’ 

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের করপোরেট কভারেজ বিভাগের প্রধান এনামুল হক বলেছেন, ‘এই যৌথ প্রচেষ্টার লক্ষ্য বিডা-এর ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম, বিশ্বব্যাংকের নীতি কাঠামোর সংস্কার এজেন্ডা এবং সম্মানিত গ্রাহকদের সহায়তায় একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে কোরিয়ান বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খাতসংশ্লিষ্টদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তনকে বেগবান করা। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিচালনায় কোরিয়ান ব্যবসায়িকদের সহায়তা করার জন্য বদ্ধপরিকর।’


দেশের একটি প্রধান বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসাবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। 
দেশে কোরিয়ার ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে ও  সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনায় সাহায্য করার জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ গঠন করেছে কোরিয়া ডেস্ক। কোরিয়ার বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায় সহায়তার জন্য ব্যাংকটি কোরিয়ান ও ইংরেজি উভয় ভাষায় রচিত ‘ডুয়িং বিজনেস ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি গাইড বই  চালু করেছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড কোরিয়ার গ্রাহকদের জন্য বাংলাদেশের অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকের সাথে সুবিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি্র পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়াতেও একটি শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করে। এ লক্ষ্যে নগদ ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য পরিষেবা, সিকিউরিটিজ পরিষেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প অর্থায়নসহ অন্যান্য বিশেষায়িত অর্থায়ন সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক সহায়তা করে ব্যাংকটি। 






আরও খবর


Chief Advisor:
A K M Mozammel Houqe MP
Minister, Ministry of Liberation War Affairs, Government of the People's Republic Bangladesh.
Editor & Publisher: A H M Tarek Chowdhury
Sub-Editor: S N Yousuf

Head Office: Modern Mansion 9th Floor, 53 Motijheel C/A, Dhaka-1223
News Room: +8802-9573171, 01677-219880, 01859-506614
E-mail :[email protected], [email protected], Web : www.71sangbad.com