প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৪ পিএম (ভিজিট : ৭৯)

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বৈশ্বিক তেলের বাজারের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিঘ্ন’ সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, আঞ্চলিক সরবরাহের ওপর ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। আইইএ সর্বশেষ বাজার প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন প্রতিদিন অন্তত ৮০ লাখ ব্যারেল (বিপিডি) কমে গেছে এবং এর পাশাপাশি কনডেনসেটসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের আরো প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির তেল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে এবং উৎপাদন সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। যুদ্ধের ফলে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করেছে। তেল বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, কিন্তু এখন প্রণালিটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ প্রায় বন্ধের মুখে পড়েছে।
আইইএ জানিয়েছে, বর্তমানে প্রণালিটি দিয়ে তেলের প্রবাহ সংকটের আগের সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশেরও কম।
২০২৫ সালে এই প্রবাহ ছিল প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল। সংস্থাটি বলেছে, ‘সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ বা প্রণালির মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার স্পষ্ট সময়সূচি এখনো দেখা যাচ্ছে না।’
সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হওয়া বৈশ্বিক বাজারে যুদ্ধের প্রভাব কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার সকালে ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে লেনদেন শুরুর সময় সূচক অর্ধ শতাংশেরও বেশি কমে যায়।
আইইএ সতর্ক করে বলেছে, ‘সমন্বিত জরুরি মজুদ উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ একটি সহায়তা হলেও সংঘাত দ্রুত শেষ না হলে এটি কেবল সাময়িক সমাধান হিসেবেই থাকবে।’