
চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: পরিকল্পিত উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয়
২ আগস্ট ২০২৬, রবিবার চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের রূপকার ও সংগঠনটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন। ফোরামের মহাসচিব মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন সঞ্চালনায় আলোচনায় বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে: প্রাক্তন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হাশেম, মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, মিতুল দাশ গুপ্ত, কাজী গোলাপুর রহমান, ওসমান গনি, মনসুর আলম, মোহাম্মদ নূর, কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ।
সভায় ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৫ সাল থেকে প্রতিষ্ঠার পর চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম নিরবচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। তবে এই সংগ্রামের ইতিহাস আরও প্রাচীন এটি আশির দশকের শেষভাগে শুরু হওয়া চট্টগ্রাম উন্নয়নের জনপ্রিয় ও দেশ কাঁপানো আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বহন করছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা সমস্যা পুনরায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে নগরবাসীর পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই সংগঠনটি গঠন করা হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসন, কালুরঘাট নতুন সেতু নির্মাণ, ওয়াসার পানিকে লবণ মুক্ত করে যথাযথ সরবরাহ নিশ্চিত করা, গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, কভিড মহামারীর সময়ে চট্টগ্রামে চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, অযৌক্তিক হারে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি প্রতিরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে সংগঠনটি কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।
সংগঠনের মূল নীতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এটা কোনো সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষেও নয়। এই সংগঠন কেবল নাগরিকের অধিকার রক্ষা, জনজীবনের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান এবং চট্টগ্রামের প্রতি যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদে কথা বলে।
তিনি চট্টগ্রাম বাসীর সমর্থন ও আশীর্বাদ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সবাইকে ন্যায্য দাবির সংগ্রামে সংগঠনের সাথে একাত্ম হওয়ার আহবান জানান।
অন্যান্য বক্তারা নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত দৃশ্যমান করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে সরকারের প্রতি আহবান জানান। চলমান মেগা প্রকল্পগুলো সঠিক সময়ে সম্পন্ন করার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বিস্তারিত নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করে চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত করার জন্য জোর দাবি জানান।
সভায় জনাব মোহাম্মদ উল্লাহ, আবুল কালামসহ সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের স্মরণ করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।