​সাদা মনের আদর্শবান শিক্ষক যখন জাতির অভিভাবক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

মহামান্য রাষ্ট্রপতি। তিনি রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তি। এই পদ যিনি অলংকৃত করবেন তিনি হবেন সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে। তার ব্যক্তিত্বের আলোয়

2026-08-15T18:17:16+00:00
2026-08-15T18:17:16+00:00
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত
Advertisement
 
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম: মার্কিন অবরোধের মধ্যেই খাড়গ দ্বীপে ইরানের তেল উত্তোলন শুরু      পরিসংখ্যানে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ      ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া      গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম       দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল      মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের চিঠি      দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সাবেক কর্মপরিষদ সদস্যর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন      
​সাদা মনের আদর্শবান শিক্ষক যখন জাতির অভিভাবক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৭ পিএম   (ভিজিট : ২২)
​সাদা মনের আদর্শবান শিক্ষক যখন জাতির অভিভাবক

​সাদা মনের আদর্শবান শিক্ষক যখন জাতির অভিভাবক

মহামান্য রাষ্ট্রপতি। তিনি রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তি। এই পদ যিনি অলংকৃত করবেন তিনি হবেন সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে। তার ব্যক্তিত্বের আলোয় আলোকিত হবে দেশের ভাবমূর্তি।

এই পদে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি যাকে মনোনীত করেছেন তাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিতর্ক তাকে কখনো স্পর্শ করেনি। তিনি আপাদমস্তক পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত মানুষ।

জীবনের ৭৮টি বছর পার করলেও নীতি ও আদর্শে তিনি হিমালয়ের মতো অটল। কথা ও আচরণে চিরকাল বিনয়ী এবং মিষ্টভাষী। রাজনীতিতে যখন আক্রমণাত্মক ভাষার আধিপত্য, তখন তিনি এক অনন্য ব্যতিক্রম—বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিরল ব্যক্তিত্ব।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করে এক দূরদর্শী রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপি কেবল জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আদর্শ লালন করা এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বকে সম্মানিত করেনি, বরং রাষ্ট্রপতি পদটির মর্যাদাকে করেছে আরও সুসংহত। এটি সুস্থ, নীতিগত ও শালীন রাজনীতির প্রতি এক বড় ধরনের আস্থা ও বিজয়ের প্রতীক।

বর্তমান সমাজে 'একজন আদর্শ রাজনীতিবিদ কেমন হওয়া উচিত'—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে গুণাবলীর তালিকাটা বেশ দীর্ঘ হয়। তাকে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন থেকে দূরে থাকতে হবে, হতে হবে সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের গভীর আস্থার প্রতীক। কঠিন সময়ে ভেঙে না পড়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা থাকাটাও জরুরি। দুঃখজনক হলেও সত্যি, আধুনিক রাজনীতিতে এসব গুণের সংমিশ্রণ মেলা ভার। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবন ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পর্যালোচনায় এই গুণগুলোর বাস্তব প্রতিফলন স্পষ্ট দেখা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার সময় থেকেই মির্জা ফখরুল সক্রিয় ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য এবং এস.এম. হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।

পড়াশোনা শেষে ১৯৭২ সালে তিনি অধ্যাপনাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং একাধিক সরকারি কলেজে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করেন। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকতা ত্যাগ করে সরাসরি মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। যে সময়ে অনেকেই ক্ষমতার মোহ বা ভয়ে দল ত্যাগ করছিলেন, সেই কঠিন সময়ে মির্জা ফখরুল খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে রাজপথে নামেন। ১৯৯২ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মনোনীত হন। তৃণমূল থেকে ধাপে ধাপে উঠে আসা এই নেতা ২০০৯ সালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০০৭ সালের 'এক-এগারো' থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পর্যন্ত বিএনপির ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল ও কঠিন সময়ে তিনি ছিলেন অকুতোভয় ও দৃঢ়চেতা এক রাজনৈতিক সংগঠক। এক ডজনেরও বেশি রাজনৈতিক মামলা, বারবার জেল-জুলুম এবং দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়েও তার মনোবল ভাঙেনি। শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও শালীন আচরণের কারণে সব দলের মানুষের কাছেই তিনি একজন ‘নিপাট ভদ্রলোক’ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে যখন তরুণ সমাজের সামনে রাজনৈতিক রোল মডেলের অভাব পরিলক্ষিত হয়, তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেকে তুলে ধরেছেন এক অনুকরণীয় আইডল হিসেবে।

দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার মতো একজন সৎ, ত্যাগী ও শিক্ষাবিদকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচন জাতির জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে দেশ একজন সত্যিকারের অভিভাবক পাবে বলে আশা করছেন রাজনৈতিক সচেতন মহল।








আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : এ এইচ এম তারেক চৌধুরী
সহ-সম্পাদক: এম এ ওয়াহেদ- ০১৮৫৯-৫০৬৬১৪

প্রধান কার্যালয় : নাহার ম্যানশন ৫ম তলা, ১৫০ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা -১০০০। নিউজ রুম: ০২৪৭১১০৪৫৪, ০১৮৮৬৩৩৩০৭৪।
e-mail: 71sangbad@gmail.com, web: 71sangbad.com