ভোলা জেলার সর্বদক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত চরফ্যাশন উপজেলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির এক অপূর্ব সমন্বয় এখানে দেখা যায়। সমুদ্রের বুকে ভেসে থাকা এ জনপদ যেন এক টুকরো স্বর্গ।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
চরফ্যাশনের প্রকৃতি মূলত নদী ও সাগরঘেরা। মেঘনা নদী আর বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে জন্ম নেওয়া চরগুলোতে রয়েছে অপরূপ দৃশ্যপট। ঢেউ খেলানো সবুজ মাঠ, ঝাউবন আর বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়। দেশের বৃহত্তম বনায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এখানকার বনভূমি বিশেষ আকর্ষণীয়।
জীববৈচিত্র্য
এ অঞ্চলে রয়েছে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। শীতকালে হাজার হাজার অতিথি পাখির আগমন চরফ্যাশনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি হরিণ, বন্য মহিষসহ নানা প্রজাতির প্রাণী এখনো এই অঞ্চলে টিকে আছে।
কুকরিমুকরি ও ঢালচর
চরফ্যাশনের সবচেয়ে আলোচিত স্থান হলো কুকরিমুকরি দ্বীপ। নীল জলরাশি, ঝাউবন আর সাদা বালির সৈকত এ দ্বীপকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি ঢালচর দ্বীপও পর্যটনের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনাময় স্থান।
ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি
চরফ্যাশনের মানুষের জীবনধারা গড়ে উঠেছে নদী ও সাগরকেন্দ্রিক। নৌকা বাইচ, পুঁই শাকের বার্তা, লোকসঙ্গীত, এবং জেলে জীবনের গল্প এ অঞ্চলের ঐতিহ্যের অঙ্গ। এখানকার মাটির তৈজসপত্র, বোনা চাটাই ও গ্রামীণ হস্তশিল্প এখনো লোকজ সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে
চরফ্যাশনের সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্য পর্যটনের জন্য বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে চরফ্যাশন হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র।
চরফ্যাশন শুধু ভোলার নয়, গোটা বাংলাদেশেরই এক অমূল্য সম্পদ।