প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম (ভিজিট : ৭৫)

নবাবগঞ্জে হাসঁ মারা নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের তরুন ফিলিমন এর উপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খটখটিয়া কৃষ্ণপুর এলাকায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের এক তরুণের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহত তরুণ ফিলিমন হেমব্রম (২৭) এ ঘটনায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
স্থানীয় আদিবাসী নেতাদের দাবি, একটি হাঁস মারা নিয়ে তোলা অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ফিলিমনকে হেনস্তা ও হামলার করা হয়েছে।
আদিবাসী সংগঠনের দাবি, এটি কেবল ব্যক্তিগত বিরোধ নয়; বরং একজন আদিবাসী তরুণ সংগঠকের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
এজাহার সুত্রে জানা যায়, ফিলিমন হাস মারার ঘটনা অস্বীকার করলে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন বলেন, “একটা সাঁওতালকে মেরে ফেললে কী হবে?”—এমন মন্তব্যের অভিযোগ সামনে আসার পর স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।সালিশ বৈঠকের নামে হামলার অভিযোগপরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও একই দিন রাতে আপোষ-মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে বুল্লির মোড় বাজারে ডাকা হয় পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। বাঁশের লাঠি, লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে পরিবারের সদস্যরাও হামলার শিকার হন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ঘটনার পর স্থানীয় আদিবাসী নেতা ও মানবাধিকারকর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সংবিধান দেশের সকল নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে। কোনো ব্যক্তি তার জাতিগত পরিচয়ের কারণে অপমান, বৈষম্য বা সহিংসতার শিকার হতে পারেন না।তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নিতবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ঘটনাটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান এবং আইনের শাসনের প্রশ্নও সামনে এনেছে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।