
গুলিস্তান: যেখানে পা ফেলার জায়গা নেই, নিয়ন্ত্রণ নেই, শৃঙ্খলাও নেই
ঢাকা: রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তান। এই নামটা এমন নেই যে চেনে না। কিন্তু সরেজমিনে গেলে বোঝা যায় এই গুলিস্তান আসলে কতটা ভয়াবহ। হাঁটার জায়গা নেই, ফুটপাত নেই, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নেই। আছে শুধু দখল, সিন্ডিকেট আর ভোগান্তি।
ফুটপাত দখলে, মানুষ রাস্তায়
গুলিস্তান জুড়ে শুধু হকারের দোকান, জুতার দোকান, ফলের দোকান, মোবাইলের দোকান। ফুটপাতের নিচে ফল, উপরে মোবাইল। পা ফেলার মতো একটুকু জায়গা নেই। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়েই হাঁটছে।
গাড়ি চলাচলেরও কোনো নিয়ম-নীতি নেই। কে কোন দিক দিয়ে যাবে তার কোনো ঠিক নেই। একদিকে রিকশা, অন্যদিকে বাস, মাঝখানে মানুষ। প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
চোর-সিন্ডিকেটের অভয়ারণ্য
সরেজমিনে দেখা গেছে গুলিস্তানে সক্রিয় রয়েছে চোরের সিন্ডিকেট। বাইরে থেকে কেউ এলে ৩-৪ জন ঘিরে ধরে নানা প্রশ্ন করে। এক পর্যায়ে ঘুপসি জায়গায় নিয়ে মালপত্র নিয়ে কেটে পড়ে।
আবার কোনো নতুন ক্রেতা যদি একবার দাম জিজ্ঞাসা করে, তাহলে তাকে বাধ্য করেই পণ্য কিনতে হয়। না কিনলে শুরু হয় হয়রানি। এমন সিন্ডিকেটেই চলছে গুলিস্তান।
পুলিশ ফাঁড়ির ভূমিকা কী?
গুলিস্তানে আউটপোস্ট পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। কিন্তু তাদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।
ফাঁড়ির আইসি সাহেবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ভাই নতুন আসছি। অথচ সে কুরবানী ঈদের দুই দিন আগে যোগদান করেছেন । দেখা যাক কি করা যায়। আপনার কথাটা রাখার চেষ্টা করব। ফুটপাত দখল এগুলা দেখার চেষ্টা করতেছি।" গুলিস্তানের মত ফাঁড়ির আইসি হয়েছে মিথ্যা কথা বলল । তিনি
ফোনে আরও বলেন, "আমার যোগদান দুই - তিন দিন হলো।
তবে সূত্র জানায়, তিনি এক মাসের বেশি সময় ধরে এখানে দায়িত্বে আছেন। বেশিরভাগ সময়ই ফাঁড়ির ভিতর তাকে বিভিন্ন দরবার নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।
জনগণের আক্ষেপ
সরেজমিনে কথা হয় অনেকের সাথে। এক ভুক্তভোগী বলেন, "দেখেন, ফুটপাতে একই সাথে মোবাইলের দোকান, নিচে ফলের দোকান। হাঁটার ব্যবস্থা নাই। পুলিশ দেখে না, সরকার দেখে না। আমরা কোন অবস্থায় আছি?"
আরেকজন বলেন, "গুলিস্তান ঢাকার এন্ট্রি পয়েন্ট। এই জায়গার যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?"
শেষ কথা
গুলিস্তান শুধু একটি জায়গার নাম না, এটি রাজধানীর মুখ। কিন্তু দখলদারি, সিন্ডিকেট আর অব্যবস্থাপনার কারণে এই মুখ আজ মলিন। নগরবাসী চায় দ্রুত অভিযান, ফুটপাত উদ্ধার এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।