
বাংলাদেশ দূতাবাস, উজবেকিস্তানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
উজবেকিস্তানে, ২২ শ্রাবণ (৬ আগস্ট): বাংলাদেশ দূতাবাস, উজবেকিস্তান যথাযথ মর্যাদায় গতকাল ‘জুলাই-গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন করেছে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত কর্মসূচির প্রথম পর্বে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে দূতাবাসে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ করা হয়। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রচারিত হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এ দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের’ আকাঙ্ক্ষা ও চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে যার যার অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান। জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জনগণের অব্যাহত সুখ, শান্তি ও অগ্রযাত্রা কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে উজবেকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর, ভাইস-রেক্টর, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে ‘ইয়ুথ অ্যাজ অ্যা চেঞ্জ মেকার ইন অ্যা চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এ বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উজবেকিস্তান টি,আই,এফ,টি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর আজিজ নাদিরোভ, সারবন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর মোজাফ্ফর জালালোভ, উজবেকিস্তান ইকোনমিক অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট মুক্তার ওমরোভ এবং তাসখন্দ টাইমসের প্রধান সম্পাদক আকবর ইউসুপভ।
রাষ্ট্রদূত ড. ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তনে আনায়নের ক্ষেত্রে তরুণ ও ছাত্রসমাজের বলিষ্ঠ অবদান ও নেতৃত্বের বর্ণনা করেন। এ প্রসঙ্গে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও পটভূমির ওপর আলোকপাত করে তিনি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মের সাহস, সংগ্রাম ও সংকল্পের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তারুণ্যের সম্পৃক্ততা ও ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উদ্যোগ, পদক্ষেপ ও প্রতিশ্রুতি পুর্নব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে দু’দেশের তরুণ সমাজের উদ্যম ও সৃজনশীলতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর তিনি জোর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি এক্ষেত্রে বিশেষভাবে কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, ঔষধ, টেক্সটাইল, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি খাতসমূহের উল্লেখ করেন, যেখানে দু'দেশের তরুণ সম্প্রদায় পারস্পরিক স্বার্থে একসাথে কাজ করতে পারে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। বক্তারা বাংলাদেশ-উজবেকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে বর্ণনা দিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ এ বন্ধনকে আরো শক্তিশালীকরণে তরুণদের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।
আগামী দিনগুলোতে দু’দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক ও সহযোগিতা এক নতুন অধ্যায়ে পৌঁছাতে তরুণ সমাজ আরো সক্রিয় ও অগ্রগামী ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।