
জবি শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার তীব্র নিন্দা ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জবি উপাচার্যের
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী মানিকগঞ্জগামী ‘কালিগঙ্গা’ বাসে দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। একইসঙ্গে তিনি সিংগাইর থানায় গিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত মানিকগঞ্জের ‘কালিগঙ্গা’ বাসটি সিংগাইর থানাধীন ভূম দক্ষিণ বাজার এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়। এ সময় বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়।
ঘটনার পরপরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। উপাচার্য মহোদয়ের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক সিংগাইর থানায় উপস্থিত হয়ে হামলার ঘটনায় মামলা ও এফআইআর করেন। পাশাপাশি উপাচার্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে মামলা গ্রহণ ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন এবং আহত শিক্ষার্থীদের সার্বিক তদারকির জন্য পরিবহন প্রশাসককে নির্দেশ দেন।
হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সিংগাইর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে উপাচার্যের নির্দেশনায় তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার উন্নত চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপাচার্য চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করবে বলে আশ্বাস দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের নেতৃত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি প্রতিনিধি দল সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছে উপাচার্য আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে যান এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীর চিকিৎসার অগ্রগতি, বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং পরবর্তী চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরবর্তীতে উপাচার্য মহোদয়ের নেতৃত্ব সকল ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সিংগাইর থানায় যান, সেখানে সার্কেল এসপি জনাব নাফিস, ইউনও এবং ওসি জনাব মাজহারুল এর সাথে কথা বলেন এবং আসামীদের দ্রুত আজ রাতের মধ্যেই গ্রেফতারের দাবি জানান এবং মামলার অগ্রগতি নিয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। একইসঙ্গে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ও সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি জানান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান, লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নঈম আকতার সিদ্দিক, পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক, বহিরাঙ্গন কার্যক্রম পরিচালক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জকসু প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক প্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।