প্রকাশ: রোববার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৫০ পিএম (ভিজিট : ১৭৬)

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ দেশব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫ এর কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি একটি মাইলফলক। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে টিকাদানের যে ক্যাম্পেইন এত বছর পর আমরা শুরু করতে যাচ্ছি এটা আমাদের জন্য সুখবর।
উপদেষ্টা আজ ঢাকায় আজিমপুর স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানায় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ইপিআই কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫ এর শুভ উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ১২ অক্টোবর ২০২৫ থেকে শুরু হলো টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সের কম বয়সী সকল শিশুকে বিনামূল্যে ১ ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV) প্রদান করা হবে।
জাতীয় পর্যায়ে প্রথমবারের মতো একই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি শিশুকে টিকা প্রদান করা হবে। জন্মসনদ না থাকলেও শিশুরা এই টিকার সুরক্ষা পাবে—যাতে কোনো শিশুই টিকাদান থেকে বঞ্চিত না হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুমোদিত টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV) একটি নিরাপদ, উন্নত ও কার্যকর টিকা, যা শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সের কম শিশুদের একটি মাত্র ডোজ প্রদানেই
৮৫ শতাংশ পর্যন্ত টাইফয়েড প্রতিরোধ সম্ভব, যা শিশুদের দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল, মাদ্রাসা ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিকা প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সের সকল শিশু, এমনকি স্কুলবহির্ভূত শিশুদেরও ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। শহরের ভাসমান ও পথশিশুদের টিকাদানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য এই কর্মসূচির আওতায় ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টিকা প্রদান করা। ইতিমধ্যে ১ কোটি ৬৮ লাখ শিশুর নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং নিবন্ধনের পর টিকার সনদপত্র সরাসরি ডাউনলোড করা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জাতীয় উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে টাইফয়েড সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং শিশু স্বাস্থ্যের মান ও সুরক্ষা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।