
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আবু সুফিয়ান (২৫) নামের এক তরুণকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, এ হামলায় ওই তরুণের দুই হাত ও একটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীর দুই সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আহত আবু সুফিয়ান সিজু শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকার বাজিতপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শাহ আলম (২২) ও তার ভাই আবদুর রাজ্জাক (২৩)। তাদের বাড়ি শ্যামপুর খোচপাড়া গ্রামে। রাজ্জাক একটি মাদরাসার শিক্ষক এবং উমরপুর ঘাট এলাকায় তার একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। সেই দোকানের কাছেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা জামায়াতের কোনো পদ-পদবিতে না থাকলেও দলটির মিছিল ও সভা-সমাবেশে অংশ নিতেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সুফিয়ানের ফুফাতো ভাইয়ের মেয়ের সঙ্গে পাশের এলাকার মোস্তাক নামের এক তরুণের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তারা পালিয়ে বিয়ে করে। পরে মেয়ের বাবা মেয়েকে নাবালক দেখিয়ে আদালতে মামলা করলে উভয়কে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে জামিন পেয়ে মেয়েটি বাবার কাছে ফিরে আসে এবং এরপর থেকে সুফিয়ানের বাড়িতে বসবাস করছিল।
কিছুদিন আগে মোস্তাক আবারও সুফিয়ানের বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি শুরু করে এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক মেয়েটিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে সুফিয়ান বাধা দিলে মোস্তাকের সঙ্গে তার হাতাহাতি ও কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে সুফিয়ান উমরপুর ঘাটের সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত কয়েকজন তার দুই হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু সুফিয়ান সিজু গণমাধ্যমকে জানান, পরিকল্পিতভাবে তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে কুপিয়েছে জামায়াত–শিবিরের কর্মীরা। তিনি দাবি করেন, হামলায় বিষের দোকানদার আব্দুর রাজ্জাক, শরৎনগর গ্রামের আনোয়ার, চামা বাজারের পোলট্রি ব্যবসায়ী আবু সাঈদের ভাই নূরসহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাতে সুফিয়ানের বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১২ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।
এদিকে জানা গেছে, আবু সুফিয়ান সিজু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চিহ্নিত তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাং লিডার। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) শ্যামপুর ইউনিয়নের চামা বাজারে শ্যামপুর ইউনিয়ন সন্ত্রাস বিরোধী ঐক্যমঞ্চ -এর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোপাল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, আবু সুফিয়ান সিজুর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। দুইজন আসামি বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছে। এছাড়া আবু সুফিয়ান সিজুর নামেও থানায় একটি মামলা আছে।
শিবগঞ্জ থানার ওসি হুমায়ন কবির বলেন, আবু সুফিয়ান সিজুর ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না, তা তিনি জানেন না। হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যা বলছে স্থানীয় জামায়াত
আবু সুফিয়ান সিজুর ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের নাম জড়ানোয় প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাদিকুল ইসলাম ও সেক্রেটারি মো. বাবুল ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
প্রতিবাদে জামায়াত জানায়, গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুর ঘাট এলাকায় সিজু নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে কিছু গণমাধ্যমে শিবগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের নির্মমতা শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা এই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।