
ভুবনমোহিনী কৃষ্ণচূড়া, এ কে সরকার শাওন
বৈশাখের মধ্য গগন,
টগবগে ক্রুর তপন,
প্রকৃতিতে ছড়ায় ঝলসানো আগুন!
খল নায়কের মত অট্টহাসি হেসে!
কাঠফাটা রোদ্দুরে ক্লান্ত পথিক,
ছায়াশীতল বৃক্ষতলে
শান্তির পরশ খোজে তপ্ত বাতাসে!
দৃষ্টি অনতিদূরে নজর কাড়ে
কৃঞ্চচূড়ার উদিত উদ্ভ্রান্ত যৌবন!
অপরূপ রক্ত লাল সাজে
ঘন-সবুজ চিরল পাতার মাঝে
তনুমন রাঙ্গানো ভালবাসার মৌবন!
উতলা হাওয়ায় পত্রমন্জুরীর
সবুজ সাগর দোলে সে কি উন্মত্ততায়!
লাল বেনারসী পরি রূপসী রানী পরী
নজরকাড়ে আকুল ভালোবাসায়!
পরক্ষণেই পথিকের ঠোঁটে হাসির রেখা
লাল খন্ডিত আকাশের মায়াবী ক্যানভাসে!
ক্লান্ত নয়নে প্রশান্তির ছোঁয়া,
সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক চোখেমুখে উদ্ভাসে!
কৃষ্ণচূড়ার থরে থরে নিবিড় ফুলকলি
অনাবিল আনন্দ উদ্রেককারী!
নিমিষেই ভুলে পার্থিব ব্যথা-বেদনা
সতেজ পরিতৃপ্ত উন্মনা পথচারী!
কান পেতে হায় ঐ শোনা যায়
তালে ডালে পাখির কলতান;
দূরে ডাকে উদাসী কোকিল
বিরহীর কেঁপে উঠে মনপ্রাণ!
মায়াবী ভুবনমোহিনী কৃষ্ণচূড়া
মনের চূড়ায় স্বপ্ন সাজায় পূর্ণতায়!
রৌদ্দুরের সবটুকু উত্তাপ অঙ্গে নিয়ে
মায়ের মমতায় মন ভোলায়!
কেউ বলে কৃষ্ণচূড়া
কেউ বলে গুলমোহর
গন্ধে মাতায় বর্ণে ধাঁধায়
উদাসী জগলুদের অন্তর!
কবিতাঃ ভুবনমোহিনী কৃষ্ণচূড়া
কাব্যগ্রন্থঃ পথে-প্রান্তরে
এ কে সরকার শাওন
শাওনাজ ভিলা , উত্তরখান, ঢাকা!