
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল অ্যামচ্যাম
অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ-এর সভাপতি এবং মাস্টারকার্ড-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে অ্যামচ্যাম নির্বাহী কমিটি মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে সচিবালয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
বৈঠকে অ্যামচ্যাম ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণ এবং একটি স্বচ্ছ, অনুমানযোগ্য, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরিতে তার দীর্ঘদিনের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে। অ্যামচ্যাম জোর দিয়ে বলে যে, এর সদস্য কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে দেশের কর কোষাগারে ২০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অ্যামচ্যাম ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে তুলে ধরে।
অ্যামচ্যাম উল্লেখ করে যে, এর সদস্য কোম্পানিগুলো বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং আরও বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে, অ্যামচ্যাম তার বিদ্যমান সদস্য এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সম্ভাব্য আমেরিকান কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ সহজতর ও সংহত করতে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে অ্যামচ্যাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং সরকারের অংশীদারিত্ব কামনা করেছে।
অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশ শক্তিশালীকরণে সরকারের অগ্রগতিকে, বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংস্কার প্যাকেজের অধীনে বাস্তবসম্মত বিনিয়োগ সহজীকরণের দিকে পরিবর্তনের বিষয়টিকে, স্বীকার করেছে। প্রতিনিধিদল সময়বদ্ধ অনুমোদন ও লাইসেন্সিং, সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়ন, ডিজিটাল কর ও ভ্যাট প্রশাসন, পরিপালনের বোঝা হ্রাস, উন্নত মূলধন ও মুনাফা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং সরলীকৃত শুল্ক পদ্ধতির মতো পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করার জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে বৃহত্তর দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত পূর্বাভাসযোগ্যতার গুরুত্বকেও অ্যামচ্যাম স্বীকার করেছে।
ডিজিটাল গভর্নেন্সের বিষয়ে, অ্যামচ্যাম পিডিপিএ এবং এনডিজিএ প্রণয়নকে স্বাগত জানিয়েছে এবং কার্যকর বাস্তবায়ন, এআই প্রস্তুতি, সাইবার নিরাপত্তা স্থিতিস্থাপকতা, নিয়ন্ত্রক স্বচ্ছতা এবং অব্যাহত সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। প্রতিনিধিদলটি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি কাঠামোকে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা গভীরতর করা এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছে।
অ্যামচ্যাম বাজার প্রবেশাধিকারের বাইরে গিয়ে প্রযুক্তি, এআই ও ডিজিটাল উদ্ভাবন, ক্লাউড ও সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবন বিজ্ঞান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন এবং আর্থিক খাতের আধুনিকীকরণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বৃহত্তর কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের দিকে অগ্রসর হওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে অ্যামচ্যাম জোর দিয়ে বলেছে যে, অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সংস্কারের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং টেকসই প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে অনুমানযোগ্য কর ও শুল্ক প্রশাসন, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো ও জ্বালানি এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা।
অ্যামচ্যাম প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করতে, বাস্তবায়নে সহায়তা করতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার, ব্যবসা, বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং অ্যামচ্যামের যথাযথ প্রতিনিধিত্বসহ একটি ডিজিটাল অর্থনীতি উপদেষ্টা ফোরাম/টাস্ক ফোর্স এবং একটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিযোগিতা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।
অ্যামচ্যাম সরকারের সাথে শুধু একজন সমর্থক হিসেবেই নয়, বরং একজন কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে—যার আওতায় থাকবে বিনিয়োগকারীদের তথ্য ও বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক মতামত প্রদান, নীতিগত সহযোগিতায় সহায়তা, বাংলাদেশকে মার্কিন কর্পোরেট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সাথে সংযুক্ত করা, আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সংস্কার ও বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করা।
প্রতিনিধিদলটি অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে ৩০তম মার্কিন বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানায়।
ফলপ্রসূ আলোচনা চলাকালে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অ্যামচ্যামের অব্যাহত সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দেন।
প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং একটি অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করেছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো অব্যাহত রাখার পাশাপাশি, নীতিগত পূর্বাভাসযোগ্যতা, দক্ষ শাসন এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সাথে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি সম্ভাব্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সরকারের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও যৌথ সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে অ্যামচ্যামের সাথে সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী জনাব খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব রেহান আসিফ আসাদ; এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান জনাব চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।