প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০১ পিএম (ভিজিট : ৯)

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জবি লাইব্রেরির শিক্ষার্থীদের অবদান সংরক্ষণের ঘোষণা উপাচার্যের
জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিন।
আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘লাইব্রেরির কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
জবি উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন হঠাৎ সংগঠিত হয়নি; বরং কোটা সংস্কার থেকে শুরু হওয়া এই গণঅভ্যুত্থানে জবি লাইব্রেরির শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। বিকৃতি এড়াতে এই সংগ্রামের প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টারি ও ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করে উপাচার্য লাইব্রেরির সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে লাইব্রেরির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ব্যাগ রাখার সেলফ নির্মাণসহ জায়গা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক কাজের ধীরগতির কারণে এসব বাস্তবায়নে সামান্য বিলম্ব হলেও দ্রুতই সমাধান মিলবে। এছাড়া জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বার্থে শনিবার লাইব্রেরি খোলা রাখার দাবিটি লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি। অন্যদিকে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে একটি স্পষ্ট পরিসংখ্যান তৈরির প্রক্রিয়া চলছে এবং জবিতে স্থান সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে বিকল্প লাইব্রেরি নিয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে 'টিম জগন্নাথ' গড়ার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে কাজ করার তাগিদ দেন। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্বে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কাজের সময় রাজনৈতিক চর্চা ছেড়ে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। একই সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেকোনো বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সত্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।