| শিরোনাম: |
বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে শীত মানেই ভিন্ন এক আবহ। নীলগিরি, বগালেক, কাপ্তাই লেক কিংবা সাজেক ভ্যালিতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন পর্যটকরা। সকালের কুয়াশা আর সন্ধ্যার শীতল হাওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। স্থানীয় হোটেল-রিসোর্টগুলোতেও প্রায় পূর্ণ বুকিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সমুদ্রসৈকতে বাড়তি ভিড়কক্সবাজার, কুয়াকাটা ও সেন্ট মার্টিনে শীতকালেই পর্যটকের চাপ সবচেয়ে বেশি। বড় ঢেউ না থাকায় সমুদ্রস্নান ও সৈকতে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন দর্শনার্থীরা। কক্সবাজারে নতুন রিসোর্ট ও পর্যটনসেবা যুক্ত হওয়ায় আগের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
ঐতিহাসিক ও গ্রামীণ পর্যটনের আকর্ষণশীত মৌসুমে মহাস্থানগড়, ময়নামতি, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার কিংবা সোনারগাঁওয়ের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতেও দর্শনার্থীর ভিড় চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যটন ও ইকো-ট্যুরিজমেও আগ্রহ বাড়ছে। অনেকেই এখন গ্রামবাংলার প্রকৃতি, নদী ও কৃষিভিত্তিক জীবনের স্বাদ নিতে ভ্রমণে যাচ্ছেন।
পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাবপর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীতকালীন ভ্রমণের কারণে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আয় বেড়েছে। এতে কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে। তবে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালীন ভ্রমণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। দায়িত্বশীল পর্যটনই পারে দেশের পর্যটন শিল্পকে টেকসই করতে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এই শীতে ভ্রমণ-পর্যটন খাতে ফিরেছে প্রাণ। প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের টানে মানুষ ছুটছে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে—যা দেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির জন্যও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
