প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৬ এএম (ভিজিট : ১৮৮)

বাংলাদেশের তায়কোয়ানডো বর্তমানে এক চরম ক্রান্তিকাল সময় অতিক্রম করছে, যার মূলে অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সহ-সভাপতি (ফুটবল অঙ্গন থেকে আগত) হাসানুজ্জামান খান বাবলুর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসাজশে সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল এরশাদুল হকসহ তার সহচররা (রফিক, আরিফ রাব্বানী, ইতি ও চঞ্চল) সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক লুটপাট এবং প্রশাসনিক অযোগ্যতার রাজত্ব কায়েম করেছেন। এক সময় যে তায়কোয়ানডো দেশের জন্য আন্তর্জাতিক গৌরব বয়ে আনত, আজ তা কতিপয় ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
২০২৫-২৬ সালের জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন ঘিরেই শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বৈষম্য; যেখানে কেবল ফেডারেশন নিজেদের পছন্দের সংগঠক দ্বারা পরিচালিত মাত্র কয়েকটি জেলাকে গোপনে আমন্ত্রণ জানানিয়েছে, ফলে ২৫-২৮টি জেলার পরিবর্তে অংশগ্রহণকারী জেলা সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৪-৫টিতে। এর চেয়েও বড় কলঙ্কজনক অধ্যায় হলো, টানা ২৫ বছরের চ্যাম্পিয়ন দল 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'কে কৌশলে টুর্নামেন্ট থেকে বাইরে রাখা হয়েছে।এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী দিপু চাকমা, সাগর শেখ, লুবাবা, রুমকী, ইলিয়াস সহ জাতীয় পর্যায়ের সেরা আটজন অ্যাথলেটকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগে ফেডারেশন থেকে বহিষ্কার করার ফলে সেনাবাহিনী দল তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। উল্লেখ্য যে, এই ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সহ-সভাপতি হাসানুজ্জামান খান বাবলু। এটি কেবল খেলোয়াড়দের প্রতি অন্যায় নয়, বরং দেশের ক্রীড়া ইতিহাসকে কলঙ্কিত করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এছাড়াও জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী খেলোয়াড়দের জন্য কোনো মেডিকেল টিম বা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা না থাকা এবং টেকনিক্যাল কমিটির মিটিং অত্যন্ত গোপনে সম্পন্ন করা কমিটির চরম দায়িত্বহীনতারই বহিঃপ্রকাশ। এর আগে বিগত ১৪তম সাউথ এসিয়ান গেমসে্র প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এর চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ এবং অমানবিক। ১৪তম সাউথ এশিয়ান গেমসের জন্য আয়োজিত ক্যাম্পে অ্যাথলেটদের জন্য বরাদ্দকৃত ভাতা প্রকাশ্যেই আত্মসাৎ করেছে এই এডহক কমিটি। দৈনিক ৩৫০ টাকা ভাতার স্থলে খেলোয়াড়দের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ১৭০-১৮০ টাকা। পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাড়া না দিয়ে খেলোয়াড়দের নিজ খরচে চলতে বাধ্য করা হয়েছে এবং খাবারের মান এতটাই নিম্নমুখী ছিল যে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা হুমকির মুখে পতিত হয়। নারী অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রে কমিটির আচরণ মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়; তাদের জন্য নির্ধারিত ‘মেনস্ট্রুয়াল ব্রেক’ বা বিশ্রামের নিয়ম কার্যকর না করে অসুস্থ অবস্থায় মাঠে লাইনে দাঁড়িয়ে রাখা এবং কোচদের দ্বারা অপেশাদার ও অশালীন মন্তব্যের শিকার হওয়া নিত্যদিনের ঘটনা ছিল।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এমন ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে যাদের কোনো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বা স্বীকৃত কোচিং লাইসেন্স নেই। এমনকি ৫ই আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে সশস্ত্র হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ফৌজদারি মামলার আসামি কামরুজ্জামান চঞ্চলকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ফেডারেশন আজ অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ফেডারেশন থেকে দক্ষ সংগঠক ও তায়কোয়ানডো খেলোয়াড়দেরদের ‘ সাইলেন্ট ব্ল্যাকলিস্ট’ করে রাখা হয়েছে যাতে কেউ এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে না পারে। বিগত ‘জাতীয় ক্লাব কাপ ২০২৫’ বারবার স্থগিত ও অবশেষে আয়োজনটি না করতে পারায় খেলোয়াড় ও অভিভাবকগন চরম হয়রানি স্বীকার হয়েছে। অন্যদিকে, ফেডারেশনের এই দখলদারিত্ব মাঠ ছাড়িয়ে এখন প্রশাসনিক স্তরেও পৌঁছেছে, ধানমণ্ডি মহিলা কমপ্লেক্সে তায়কোয়ানডো সিনিয়র ব্লাকবেল্টধারী মহিলা প্রশিক্ষকদের ক্ষমতার জোরে তাড়িয়ে দিয়ে সেখানে লে. কর্নেল এরশাদুল হক আরিফ রাব্বানীর স্ত্রী আসমা খাতুনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের এই সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যর্থতা, আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং অ্যাথলেটদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে খেলোয়াড় ও সংগঠকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। অবিলম্বে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং বিতর্কিত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের অপসারণ করে বাংলাদেশের তায়কোয়ানডোকে এই অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা করাই এখন তায়কোয়ানডো খেলোয়াড়দের একমাত্র দাবি।