লক্ষ্মীপুরের বাজারে ইলিশের চড়া দাম, নাগালের বাইরে সাধারণ ক্রেতা

মোঃ আলাউদ্দিন

সারা বাংলা

বাংলাদেশের নদ-নদীতে প্রাকৃতিকভাবে বংশবিস্তার করা ইলিশ মাছ দেশের মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় খাদ্য। তবে সময়ের সঙ্গে ইলিশের দাম এমন পর্যায়ে

2026-08-12T15:38:16+00:00
2026-08-12T15:38:16+00:00
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত
Advertisement
 
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম: মার্কিন অবরোধের মধ্যেই খাড়গ দ্বীপে ইরানের তেল উত্তোলন শুরু      পরিসংখ্যানে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ      ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া      গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম       দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল      মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের চিঠি      দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সাবেক কর্মপরিষদ সদস্যর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন      
লক্ষ্মীপুরের বাজারে ইলিশের চড়া দাম, নাগালের বাইরে সাধারণ ক্রেতা
মোঃ আলাউদ্দিন
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৮ পিএম   (ভিজিট : ৪৭)
লক্ষ্মীপুরের বাজারে ইলিশের চড়া দাম, নাগালের বাইরে সাধারণ ক্রেতা

লক্ষ্মীপুরের বাজারে ইলিশের চড়া দাম, নাগালের বাইরে সাধারণ ক্রেতা

বাংলাদেশের নদ-নদীতে প্রাকৃতিকভাবে বংশবিস্তার করা ইলিশ মাছ দেশের মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় খাদ্য। তবে সময়ের সঙ্গে ইলিশের দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা এখন অনেক সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে। তুলনামূলক ছোট আকারের ইলিশের দামও কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

বুধবার (১২ আগস্ট) লক্ষ্মীপুরের কয়েকটি বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাছের দোকানগুলোতে ইলিশ থাকলেও দাম শুনে অনেক ক্রেতাকেই ফিরে যেতে হচ্ছে। কেউ কেউ মাছ হাতে নিয়ে দাম জেনে শেষ পর্যন্ত অন্য মাছ কিনছেন। ফলে ইলিশের বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও কেনাকাটা তুলনামূলক কম।

স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, একসময় মৌসুমে ইলিশ সাধারণ মানুষের খাবারের তালিকায় থাকলেও বর্তমানে এর দাম অনেক পরিবারের মাসিক বাজারের হিসাবের সঙ্গে মেলানো কঠিন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই ইলিশ কেনার ইচ্ছা থাকলেও দামের কারণে তা এড়িয়ে যাচ্ছেন।

হাজী রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, “ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। কিন্তু বাজারে এসে যখন এক কেজির দাম তিন হাজার টাকার বেশি শুনি, তখন সাধারণ মানুষের জন্য এটি কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবারের জন্য মাছ কিনতে এসে ইলিশের পরিবর্তে কম দামের অন্য মাছ নিতে হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা লালমিয়া বলেন, আগে বিশেষ কোনো দিন বা সপ্তাহে ইলিশ কেনা যেত। এখন ভালো আকারের একটি ইলিশ কিনতে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। ফলে এটি সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের বাজারের মাছ না হয়ে অনেকটা বিশেষ খাবারে পরিণত হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ইলিশের দাম নির্ধারণে উৎপাদন, সরবরাহ, পরিবহন, আড়তদারি ও খুচরা বাজারের বিভিন্ন স্তরের প্রভাব রয়েছে। সরবরাহ কমে গেলে দাম আরও বেড়ে যায়। তবে বাজারে ইলিশের সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

এদিকে প্রতিবেশী দেশে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে নানা সময়ে আলোচনা থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি না হওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের প্রশ্ন—বিদেশে রপ্তানি না থাকলেও দেশের বাজারে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে কেন?

স্থানীয় এক ক্রেতা রসিকতা করে বলেন, ইলিশ নদীর মাছ হলেও এর স্বাদ এখন যেন সবার জন্য নয়। বাজারে দাম দেখে মনে হয়, ইলিশেরও আলাদা ক্রেতা শ্রেণি তৈরি হয়েছে।

সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, ইলিশের প্রকৃত উৎপাদন, বাজারে সরবরাহ, আড়ত ও খুচরা পর্যায়ের মূল্য—সবকিছুতে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে সিন্ডিকেট বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ থাকলে তা বন্ধে বাজার মনিটরিং জোরদার করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ক্রেতাদের প্রত্যাশা, দেশের নদীতে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা জাতীয় মাছ ইলিশ যেন শুধু সামর্থ্যবান মানুষের খাবার হয়ে না থাকে; বরং সাধারণ মানুষও যেন অন্তত মৌসুমে ইলিশ কেনার সুযোগ পান।








আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : এ এইচ এম তারেক চৌধুরী
সহ-সম্পাদক: এম এ ওয়াহেদ- ০১৮৫৯-৫০৬৬১৪

প্রধান কার্যালয় : নাহার ম্যানশন ৫ম তলা, ১৫০ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা -১০০০। নিউজ রুম: ০২৪৭১১০৪৫৪, ০১৮৮৬৩৩৩০৭৪।
e-mail: 71sangbad@gmail.com, web: 71sangbad.com