রোকেয়া বেগম নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের বাশদাহ মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা। প্রায় দুই যুগ আগে স্বামীকে হারানোর পর একমাত্র দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়ে অপেরাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে মা-মেয়ে পলিথিনে ঢাকা জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। ভিক্ষা করে কোনো রকমে চলে তাদের সংসার। ঘরটিতে নেই বিদ্যুৎ কিংবা জীবনযাপনের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা। ভাঙাচোরা ঘরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অসংখ্য ছিদ্র। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে ভিজে যায় বিছানা ও রান্নার চুলা।
এত কষ্টের মধ্যেও প্রাণীদের প্রতি মমতা কমেনি রোকেয়া বেগমের। স্থানীয়দের ভাষ্য, নিজেদের খাবারের নিশ্চয়তা না থাকলেও প্রতিদিন চারটি কুকুর ও একটি বিড়ালের জন্য খাবার সংগ্রহ করেন তিনি। প্রাণীগুলোও যেন তার পরিবারেরই অংশ। রাত হলে জরাজীর্ণ সেই ঘরেই মা-মেয়ের সঙ্গে আশ্রয় নেয় কুকুর-বিড়ালগুলো।
নিজের জীবনে সীমাহীন অভাব থাকলেও অসহায় প্রাণীদের প্রতি রোকেয়া বেগমের এই মমতা এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মানুষের পাশাপাশি অসহায় প্রাণীদের প্রতিও দায়িত্ব ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
রোকেয়া বেগম ও তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়ের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করতে উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষদেরও অসহায় মা-মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।