প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৩ পিএম (ভিজিট : ১১০)

চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের নামুড়ী চন্দ্রপুর এলাকার ৭০ টি পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে তারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
এ ঘটনায় এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) বিকেলে ওই এলাকার পরেশ চন্দ্র রায় নামে এক কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ব্যবস্থা গ্রহন করতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের নামুড়ী চন্দ্রপুর বিলের মুখে মেইন রাস্তা হইতে বসতবাড়িতে যাওয়ার এলাকার লোকজনের দেয়া জমিতে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এই রাস্তাটি দিয়ে বিগত প্রায় ৪ যুগ থেকে এ রাস্তা দিয়ে নামুড়ী চন্দ্রপুর এলাকার ৭০ টি পরিবার নিয়মিত চলাচল করে আসছে। সেখানে রয়েছে বসতবাড়ি, একটি কালীমন্দির,শ্মশানঘাট ও সরকারী একটি নামুড়ী বিল নামের বিশাল বিল রয়েছে। উক্ত রাস্তাটি দিয়ে তারা বিভিন্ন হাট-বাজার, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত যাতায়াত এবং কৃষকের মাঠের উৎপাদিত ফসল এ রাস্তা দিয়েই আনা নেয়া করে আসছিলো।
এমতাবস্থায় হঠাৎ করে সোমবার (১২ জানুয়ারী) পার্শ্ববর্তি ইউনিয়ন ভেলাবাড়ী নয়ারহাট এলাকার ইউনুস আলীর নামের এক ধর্ণাঢ্য কৃষক পরিবারগুলো ঐ রাস্তা দিয়ে যাতে চলাচল করতে না পারে সেজন্য চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়ে রাস্তার মেঝের উপর একটি ঘর নির্মান করে। ফলে পরিবারগুলো একপ্রকার গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এদিকে ঘর নির্মানের বাঁধা দিলে সে আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করিয়া তাড়াইয়া দেয় এবং ইউনুস আলী আমাদেরকে বলে আমার জমিতে আমি ঘর উঠিয়েছি তোদের কিছু করার থাকলে আমাকে করিস এই বলে আমাদেরকে তাড়িয়ে দেয়।
ইউনুস আলী রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় কেন্দ্র করে এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগকারী পরেশ চন্দ্র রায়, আমিসহ আমার পরিবারের লোকজন ও শিশুরা স্কুলে যাইতে পাইতাছেনা। অবিলম্বে রাস্তাটি খুলে দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ইউনুস আলী কৃষক বলেন, এই রাস্তা কোন প্রককা সরকারী বা কোন রেকর্ডভুক্ত নয়। পাশে আমার অনেক জমি রয়েছে যা শস্য আনা নেওয়ার জন্য আমি এই রাস্তাটি নির্মান করি। এমন অবস্থায় এই রাস্তা ঐ পরিবারগুলো চলাচল করেছিল। আমি মানুষ চলাচলের কোন রাস্তা বন্ধ করেনি। রাস্তার পাশে ব্যবসা করার জন্য একটি ঘর নির্মান করেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিধান কান্তি হালদার জানান, এ বিষয়ে অভিযোগে পেয়েছি। বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করে।