প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম (ভিজিট : ২০৩)

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলাতে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে নির্যাতন এবং তার পিতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রাম (বাংলালিংক টাওয়ার পাড়া) এলাকার বাসিন্দা মোঃ আজাহার আলীর কন্যা মোছাঃ আয়শা সিদ্দিকা সোমার সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে একই এলাকার মোঃ আব্দুল বারিক তহশিলদারের পুত্র শাহাদত হোসেন সোহাগের বিবাহ হয়। বিবাহের সময় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় এবং কনের পরিবার থেকে ৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাহের ৫–৬ মাস পর স্বামীর চাকরির জন্য ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এরপর আরও ১০ লাখ টাকা এবং কনের পিতার বাড়ির জমি দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা ও জমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী শাহাদত হোসেন সোহাগ, শ্বশুর মোঃ আব্দুল বারিক তহশিলদার ও শাশুড়ি মোছাঃ ছাহেরা বেগম বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।
ঘটনার দিন ২০ ফেব্রুয়ারি বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে স্বামী সোহাগ বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং তলপেটে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া গলা চেপে ধরে নাক-মুখ ও মাথায় কিল-ঘুষি মারার অভিযোগও রয়েছে। চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে ভুক্তভোগী মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার পিতা আজাহার আলীকে জানান। তিনি ছোট মেয়ে ছামিহা খাতুন (৮)কে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযোগ অনুযায়ী সোহাগ ধারালো দা দিয়ে আজাহার আলীর মাথায় কোপ মারেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় ছোট বোন ছামিহা খাতুন বাবাকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তা
রা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিম উদ্দিন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত শাহাদত হোসেন সোহাগ, মোছাঃ ছাহেরা বেগম ও মোঃ আব্দুল বারিক তহশিলদারের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।