প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৯ পিএম আপডেট: ১৪.০১.২০২৬ ৩:২৬ পিএম (ভিজিট : ১৪০)

খাগড়াছড়ি সদর আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলীর বাসভবনে মঙ্গলবার রাতে সংঘটিত একটি ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রার্থী দাবি করছেন ককটেল হামলার, অন্যদিকে পুলিশ বলছে এটি ছিল নিছক আতশবাজি।
রাত ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে বলে জানান এয়াকুব আলী। তিনি এটিকে সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করে পরোক্ষভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীর দিকে ইঙ্গিত করেন। তার মতে, "নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই এ ধরনের কাণ্ড ঘটানো হয়েছে।"
বিপরীতে, খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো. কায় কিসলু জানান, ঘটনাস্থল থেকে শুধুমাত্র একটি সাদা প্লাস্টিকের টুকরো উদ্ধার হয়েছে। বিস্ফোরক বা বারুদের কোনো চিহ্ন মেলেনি। তিনি বলেন, "বিস্ফোরণের সময় আকাশে আলো দেখা গেছে, যা স্পষ্টতই আতশবাজির লক্ষণ।"
প্রাপ্ত প্লাস্টিকের টুকরোটি পুলিশ প্রতিবেশী এলাকায় বসবাসরত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মাহমুদুলকে দেখিয়েছে। তিনিও বিস্ফোরক জাতীয় কোনো উপাদানের অস্তিত্ব শনাক্ত করতে পারেননি।
জামায়াত প্রার্থী পুলিশের ধীরগতির সমালোচনা করে বলেন, থানা থেকে পাঁচ মিনিটের দূরত্বে থাকা সত্ত্বেও পুলিশ পৌঁছতে এক ঘণ্টা সময় নিয়েছে। তিনি প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "যখন একজন প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নিরাপদ নয়, তখন সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?"
তবে ওসি কায় কিসলু এ অভিযোগ নাকচ করে জানান, প্রার্থী হওয়ায় তারা বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী আজ (১৪ জানুয়ারি) বিকাল চারটায় বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী মামলা দায়েরের ঘোষণা দিলেও এখনো তা করা হয়নি। পুলিশ বলছে, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।