প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৫ পিএম (ভিজিট : ২৩৪)

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সরকারি খালের মাটি অবৈধভাবে কেটে বিক্রি এবং প্রকাশ্য মাদক সেবনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। এ সময় তাদের মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া, ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ ডিলেট করা এবং নগদ টাকা লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়ানে পোয়ালবাড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. হারুন-অর-রশিদ বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আক্রান্ত সাংবাদিক হারুন-অর-রশিদ দৈনিক সময়ের কাগজ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি এবং এসডি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদ আলী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে সংবাদকর্মী হারুন-অর-রশিদ ও সাজ্জাদ আলী সংবাদ পান যে, পোয়ালবাড়িয়া এলাকায় সরকারি খালের মাটি অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে কাটা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহে সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, শশীধরপুর ইউনিয়নের মৃত আবুল হান্নানের ছেলে মো. আব্দুল হান্নান (হানু) ও তার ১০-১২ জন সহযোগী মিলে অবৈধভাবে মাটি কাটছেন। একই সাথে সেখানে থাকা শ্রমিকরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মাদক সেবন করছেন।
সাংবাদিকরা এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ শুরু করলে অভিযুক্ত হানু মিয়ার নির্দেশে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের মারধর করে দুটি দামী স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয় এবং এসডি টিভির প্রতিনিধির পকেটে থাকা নগদ ৯ হাজার ২০০ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে একটি মোবাইল ফোনে থাকা অবৈধ মাটি কাটার ভিডিও ফুটেজ ডিলেট করে সেটি ফেরত দিলেও অন্য ফোনটি তারা আটকে রাখে। এসময় সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক হারুন-অর-রশিদ বলেন, "আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী হানু ও তার লোকজন আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি ভাবে হামলা চালিয়েছে। তারা আমাদের ফোন কেড়ে নিয়ে প্রমাণ নষ্ট করেছে এবং টাকা ছিনতাই করেছে। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"
এই বিষয়ে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দৌলতপুর থানা পুলিশ জানায়, সাংবাদিকদের ওপর হামলার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।