
রাজশাহীর বাঘা উপজেলা অতিষ্ট করে তুলেছেন কথিত নেতা দাবিদার হুন্ডি মুকুল। লুটপাট চুরি-ছিনতাই মাদক ব্যবসা চাঁদাবাজি সাংবাদিক হাসমত মারধর ক্লিনিক ও হাসপাতাল কেন্দ্রিক দুর্নীতি এবং প্রকাশ্য সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মুকুল ওরফে হুন্ডি মুকুলের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানায়, তার দাপটে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও আতঙ্কে মুখ খুলতে পারছে না।তাদের গোপন ক্যামেরায় বক্তব্য রেকর্ড করা হলে তারা জানান, হুন্ডি মুকুল এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চোর ও সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। কেউ তার কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি ধামকি সহ তাদের উপর সন্ত্রাসী কায়দায় হাসপাতালের মধ্যে নৃশংস ভাবে হামলা চালায়।
অভিযোগ উঠেছে, হুন্ডি মুকুল বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে নেন।তিনি সরকারি সেই হাসপাতালে কালো অর্থ ছড়িয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি সন্ত্রাসী বলয়।
জানাযায়, তিনি সেই প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদারের দায়িত্ব পাওয়ার পরে পুরো হাসপাতালকে জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ওষুধ বাণিজ্য ও খাবার আত্মসাৎ করে অবৈধভাবে বিক্রি করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্চ্ছেন।এতে এক দিকে রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অন্যদিকে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, এই লুটপাট ও অনিয়মের বিষয়ে কেউ মুখ খুললেই হুন্ডি মুকুলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় নারী বৃদ্ধ রোগী এমনকি বাঘার সাংবাদিকরা ও রেহাই পাননি বলে ও অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, মুকুল ওরফে হুন্ডি মুকুলের বিরুদ্ধে রাজশাহীর চারঘাট থানায় নাশকতা মামলাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি হাসমাতাল মোড়ে মাদক ফাদার হিসেবেও পরিচিত। তবুও রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে নানা অপকর্মের জন্ম দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হুন্ডি মুকুল দলকে বিতর্কিত ও কলঙ্কিত করছে। জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে বিএনপির উচ্চপর্যায়ে লিখিত অভিযোগের প্রকিয়া চলমান রেখেছে দলের এক প্রবীণ নেতা।
একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরেও লিখিত অভিযোগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন অপর এক ব্যক্তি।
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে উত্তেজনা ছিল। বর্তমানে নতুন কৌশলে এসব কর্মকাণ্ড আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করা হচ্ছে।
এদিকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ এবং অনিয়ম দুর্নীতিতে মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, টিএইচও আসাদুজ্জামান আসাদ ও সন্ত্রাসের গডফাদার হিসেবে পরিচিত হুন্ডি মুকুলের যোগসাজশেই হাসপাতাল কেন্দ্রিক এই অনিয়ম ও লুটপাট দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। এসব বিষয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ইতোমধ্যে দেশের একাধিক জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে বাযার কিছু কমিশন সাংবাদিক দিয়ে ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, বাঘা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কথিত বিএনপি নেতা হুন্ডি মুকুল ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
ঠিকাদার হুন্ডি মুকুল ও টিএইচও আসাদুজ্জামানের নানা অনিয়ম দুনিতি ও লুটপাট কান্ডের অন্ধকার রাজ্য আমরাই তুলে ধরবো