
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সোনাইমুড়ী উপজেলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। উপজেলার ৬৯টি ভোটকেন্দ্রে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মোট ২ লাখ ১৮ হাজার ৫১১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন্দ্রগুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। এর মধ্যে ১৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ, ১১টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, একটি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ, তিনটি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ৪১টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এই ২৮টি কেন্দ্রকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা।
প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী সোনাইমুড়ী থানা থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী কেন্দ্রগুলো হলো দেওটি ইউনিয়নের পতিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঘাসেরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব কেন্দ্র থানার অবস্থান থেকে তুলনামূলক দূরে হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে কুমিল্লা জেলার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে চাষীরহাট ইউনিয়ন সরাসরি কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জয়াগ ইউনিয়ন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত এবং উত্তর-পূর্ব কোণের আমিশাপাড়া ইউনিয়ন মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। সীমান্তঘেঁষা কেন্দ্রগুলোতে সহিংসতা ঘটলে দ্রুত এলাকা ত্যাগের আশঙ্কা থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
তালিকাভুক্ত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে কুমিল্লা জেলার সীমানা ঘেঁষে থাকা কেন্দ্রগুলো হলো চাষীরহাট ইউনিয়নের পোরকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব কেন্দ্র সোনাইমুড়ী থানা থেকে ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর মধ্যে কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ এবং পোরকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পূর্ববর্তী বিভিন্ন নির্বাচনে চারটি কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। কেন্দ্রগুলো হলো সোনাইমুড়ী পৌরসভার বাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নদনা ইউনিয়নের কালুয়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বজরা ইউনিয়নের ছনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বারাহিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইফ উল্যাহ গত ৩০ জানুয়ারি চাটখিল-সোনাইমুড়ীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জানান, তাদের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি তালিকা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই তালিকায় সোনাইমুড়ী পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের মোট ১৯টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। জনসভার মঞ্চ ছাড়িয়ে সেই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে রাজপথেও। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নদনা ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এক কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। এর আগে সোনাইমুড়ী পৌর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর এক নারী কর্মীকে সড়কে হেনস্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব ঘটনাকে সাজানো নাটক বলে দাবি করেছে বিএনপি।
দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে ভোটের দিন সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে প্রশাসন জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। আনসার, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের যাতায়াতে বাধা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন ঠেকাতে বিশেষ টহল টিম কাজ করবে।
এছাড়া যে কোনো কেন্দ্রের বিশৃঙ্খলা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর ‘কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স’ প্রস্তুত থাকবে। কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা।
গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সোনাইমুড়ীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান নোয়াখালীতে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর উপ-অধিনায়ক মেজর রেজাউর রহমান বাপ্পি।
সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সমন্বয়ে ভোটার ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।