সরকার নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে অন্যদিকে দলীয় সন্ত্রাসীরা নারীর প্রতি সহিংসতা চালাচ্ছে - ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৩:১৮ পিএম (ভিজিট : ৮৬)

দেশ ও জাতির স্বার্থ বিরোধী কোনো কাজ সরকারকে করতে দেওয়া হবে না
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেছেন, "সরকার এদিকে নারীর ক্ষমতায়নের নামে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে অন্যদিকে দলীয় সন্ত্রাসীরা নারীর প্রতি সহিংসতা চালাচ্ছে"। তিনি বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সারাদেশে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। নারী ও শিশুকে ধর্ষণের পর পৈচাশিক কায়দায় হত্যা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোন ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রধানমন্ত্রী একদিকে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করছেন অপরদিকে তার দলীয় সন্ত্রাসীরা বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা করে একেকটা পরিবারকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। কিন্তু সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক এবং আইনগত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হাজারীবাগ দক্ষিণ থানার উদ্যোগে দরিদ্র-অসহায় সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে জনগণের কল্যাণে নিবেদিত ছিল, আছে এবং থাকবে। জামায়াতে ইসলামী সরকারকে দেশ ও জাতির স্বার্থে সহযোগিতা করবে। তবে দেশ ও জাতির স্বার্থ বিরোধী কোনো কাজ সরকারকে করতে দেওয়া হবে না।
ড. মাসুদ আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আ’লীগ সরকারের পরিচালিত গণহত্যায় নিরব সমর্থন দিয়েছে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন চুপ্পু। চব্বিশের ছাত্র-জনতার ওপর র্নিবিচারে গুলি চালিয়ে হাজার-হাজার ছাত্র-জনতাকে শহীদ করার পরও রাষ্ট্রপতি নিরব ভূমিকা পালন করেছে। তিনি গণহত্যা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং তিনি আওয়ামী লীগের গণহত্যাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। জুলাই গণহত্যার দায় রাষ্ট্রপতি কোনভাবেই এড়াতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল চাকুরীতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে ছাত্রদের এক শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন। ঐ আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে পুলিশ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ছাত্রদের আহত-নিহত করে। ফলে ছাত্রদের রক্তে রাজপথে রঞ্জিত হয়ে পড়ে। ছাত্রদের রক্তে ফুঁসে উঠে পুরো দেশবাসী। ছাত্রদেরর আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয় দেশের কৃষক, শ্রমিক, ঠেলা-ভ্যান ও রিকশা চালকসহ সকল পেশাজীবির মানুষ। ঐ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন চুপ্পু স্বপদে বহাল থাকে। নির্বাচিত সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করার ক্ষমতা থাকলেও সরকারি দলের স্বদিচ্ছা না থাকায় রাষ্ট্রপতি বহাল তবিয়তে রয়েছে। অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য ও হাজারীবাগ দক্ষিণ থানা আমীর আখতারুল আলম সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম খান, এডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।