
উঠানে সারি সারি ৯টি লাশ, দাফনের অপেক্ষা
বাড়ির সামনের উঠানে সারি সারি খাটিয়ায় রাখা আছে নয়টি লাশ। ছুটে এসেছেন আত্মীয়স্বজন ও নিকট-দূর প্রতিবেশীরাও। সবার আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। এ দৃশ্য মোংলা পৌর শহরের সাত্তার লেনের বাড়িটিতে ।
পৌর বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ তার ছেলে, মেয়ে, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনির নয়টি লাশ এভাবেই সারিবদ্ধ করে রাখা হয়ে সাত্তার লেনের বাড়িতে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাটের রামপালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে বেলাই ব্রিজ নামকস্থানে নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় নববধূকে বহনকারী মাইক্রোবাসটির। মুহূর্তেই সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। মাইক্রোবাস চালকসহ দুই পরিবারের ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
জুমার নামাজ শেষে দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পৌর কবরস্থানে একে একে দাফন করা হবে তাদের। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের জানাজায় অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুলনা ও বাগেরহাটের রামপাল থেকে লাশ এসে পৌঁছায় মোংলায় নিহত রাজ্জাকের বাড়িতে। আর গভীর রাতে খুলনার কয়রায় পৌঁছায় রাজ্জাকের নববধূ ও তার বোন, নানি এবং দাদির লাশ। একই রাতে বাগেরহাটের রামপালের সিঙ্গেরবুনিয়ায় পৌঁছায় মাইক্রোবাস চালক নাঈমের লাশ।
নিহতদের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হাসপাতাল থেকে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতরা হলেন— বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, বরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ, আরফা, ইরাম। কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম।
নিহত বরের ভাই জনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী সন্তান ভাই-বোন সবই হারালাম, আমি একা হয়ে গেলাম।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক বাবুল হোসেন রনি বলেন, রাজ্জাক ভাই আমাদের দলের লোক। ছেলেকে বিয়ে করিয়ে বধূ নিয়ে ফেরার পথে সবাই মারা গেছেন। এটা কোনোভাবে মেনে নেয়ার মতো নয়। এত বড় ট্র্যাজেডি এর আগে আর মোংলায় ঘটেনি।
নিহত বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার বলেন, আমার ভাইয়ের পরিবারের ১২ জনের মধ্যে ৯ জন মারা গেল। বাকি আছে আমার ভাবি ও দুই ভাইপো। ভাইপো একজন বাড়িতে তার মায়ের কাছে আছে, আরেকজন খুলনা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন।